নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৭ জুলাই:
‘সংসদে একটি শক্তিশালী উচ্চকক্ষ গঠন আবশ্যক, এবং এই উচ্চকক্ষ অবশ্যই পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক অনুপাত) পদ্ধতিতে গঠিত হতে হবে’— এমন বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রবিবার বিকেলে শেরপুর শহরের রঘুনাথ বাজার থানা মোড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো, রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন এবং সীমান্ত হত্যা নিয়ে তিনি কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন,”সংসদে উচ্চকক্ষ থাকা জরুরি এবং এই উচ্চকক্ষ পিআর পদ্ধতিতে হতে হবে। পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ নিশ্চিত করা গেলে আমরা ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর করতে পারি। তবে যদি মৌলিক সংস্কার না হয়, যদি রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তন এই সনদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে জাতীয় নাগরিক পার্টি তাতে সমর্থন দেবে না।”
তিনি আরও বলেন,”শুধু জুলাই সনদ নয়, সংবিধানে জুলাই ঘোষণাপত্রও সংযুক্ত করতে হবে। আমাদের দাবি— আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে সরকার এই সনদ ও ঘোষণাপত্র প্রকাশ করবে। অন্যথায় আমরা ছাত্র-জনতাকে নিয়ে ঢাকায় বৃহত্তর সমাবেশ করে তা আদায় করে নেব।”
তিনি একক ক্ষমতার কেন্দ্রীভবনের সমালোচনা করে বলেন,”বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থায় এক ব্যক্তির হাতে অপ্রতিবন্ধিত ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়ে আছে। এ কারণেই স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এর অবসানে আমরা একটি উচ্চকক্ষের প্রস্তাব দিয়েছি, যেখানে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে পিআর পদ্ধতিতে।”
নাহিদ ইসলাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিরীহ বাংলাদেশিদের হত্যাকাণ্ড এবং পুশ-ইনের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন,”আমরা শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থান নেওয়া স্বৈরাচারের দোসরদের দেশে ফেরত চাই। তাদের পুশইন করুন, আমরা সাদরে গ্রহণ করব এবং বিচারের মুখোমুখি করব।”
সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন এনসিপি শেরপুর জেলার প্রধান সমন্বয়কারী প্রকৌশলী মো. লিখন মিয়া।
এতে আরও বক্তব্য দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এদিন সমাবেশস্থলে উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মীর গগনবিদারী স্লোগানে এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই”, “উচ্চকক্ষ চাই – একদলীয় সংসদ নয়”, “সীমান্ত হত্যা বন্ধ করো” ইত্যাদি দাবিতে মুখরিত হয় রঘুনাথ বাজার থানা মোড়।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নাগরিক পার্টির এই অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। সংসদের উচ্চকক্ষ ও পিআর পদ্ধতির প্রস্তাব একটি মৌলিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এটি সরকারের ওপর চাপ বাড়াবে, বিশেষ করে আগামী নির্বাচনের প্রাক্কালে।
