নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে গিয়ে রোগী পরিবারের ভোগান্তি নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করলাম। দুপুর দুইটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থান করতে হয়েছে। এ সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে বাধ্য হচ্ছি—এ হাসপাতালের দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ভয়াবহ।
দুপুর দুইটায় গিয়ে সিরিয়াল পাওয়ার পর আধা ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, রিপোর্ট হাতে আসতে সময় লেগে যায় দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা। হেল্পডেস্কে গিয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা ভদ্রলোক জানালেন—তিনি একই সঙ্গে ব্লাড সংগ্রহও করেন, তাই ডেস্কে নিয়মিত বসতে পারেন না।
আমি তার কাছে জানতে চাইলে কে ইনচার্জ, তিনি বলেন গিয়াস সাহেবের সাথে যোগাযোগ করতে। রিপোর্ট রুমে গিয়ে গিয়াস সাহেবকে খুঁজে পাই। মাথায় টুপি, মুখে সুন্নতি দাড়ি, ভদ্রভাবেই পরিচয় দেন তিনি। কিন্তু যখন তিনি আমার গলায় ঝোলানো সাংবাদিক পরিচয়পত্র লক্ষ্য করেন, তখনি তার সুর পরিবর্তিত হয়। নরম কণ্ঠে আশ্বস্ত করেন—“ভাই, আমি বিষয়টা দেখছি।”


তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—ডাক্তারদের মূল কাজ রোগীকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া। কিন্তু হাসপাতালের অদক্ষ ও দায়িত্বহীন কর্মচারীদের কারণে চিকিৎসকরা সঠিক সময়ে রোগীকে চিকিৎসা দিতে পারছেন না। এর ফলেই চিকিৎসা সেবার মান না বাড়িয়ে উল্টো সুনাম হারাচ্ছে হাসপাতাল।
বাংলাদেশের অনেক সেক্টরের মতো হাসপাতালগুলোতেও এই অব্যবস্থাপনা বিদ্যমান। সাংবাদিক সমাজ যদি প্রতিদিন সরকারি, বেসরকারি ও আধা-সরকারি হাসপাতালগুলোর কার্যক্রমে একটু নজর রাখেন, তাহলে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পাবেন, হাসপাতালগুলো দালালমুক্ত হবে এবং মালিকপক্ষও প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হবেন।
