ঢাকাThursday , 12 March 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কলাম
  9. কুমিল্লা জেলার খবর
  10. খেলা
  11. জন্মদিনের শুভেচ্ছা
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্যপ্রযুক্তি
  15. দূর্নীতি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রমজানের শেষ দশকে এতেকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদন
রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এক মহামূল্যবান নিয়ামত। এ মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে। ইবাদত-বন্দেগি, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য এটি এক বিশেষ সময়। এই বরকতময় মাসের শেষ দশকে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যা বান্দাকে আল্লাহর আরও কাছে পৌঁছে দেয়। এর মধ্যে অন্যতম একটি আমল হলো এতেকাফ।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, এতেকাফ এমন একটি ইবাদত যার মাধ্যমে একজন মুসলমান দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে নিজেকে আলাদা করে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন হতে পারেন। মূলত রমজানের শেষ দশকে মসজিদে অবস্থান করে নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করাই এতেকাফের মূল উদ্দেশ্য।
হাদিসে এতেকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে অনেক বর্ণনা পাওয়া যায়। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জীবনের শেষ পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে নিয়মিত এতেকাফ করেছেন। তাঁর ইন্তেকালের পর উম্মাহাতুল মুমিনিনরাও এ আমল অব্যাহত রাখেন। (সহিহ বুখারি)
তিনি আরও বলেন, সারা বছর মানুষের জীবনে নানা কাজ ও দায়িত্ব থাকে। কর্মব্যস্ততার কারণে অনেক সময় ইবাদতের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না। তাই আল্লাহ তাআলা এতেকাফের বিধান দিয়েছেন, যাতে বান্দা কিছু সময়ের জন্য সব ব্যস্ততা থেকে মুক্ত হয়ে একান্তভাবে তাঁর ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন এতেকাফ করবে, আল্লাহ তাআলা তার ও জাহান্নামের মাঝে তিনটি খন্দক বা পরিখার দূরত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। প্রতিটি পরিখার দূরত্ব পূর্ব থেকে পশ্চিমের দূরত্বের সমান। (বায়হাকি)
এতেকাফের আরেকটি বিশেষ দিক হলো—এতেকাফকারী ব্যক্তি মসজিদের ভেতরে অবস্থান করায় বাইরে গিয়ে বিভিন্ন নেক কাজ যেমন জানাজায় অংশগ্রহণ, অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া বা সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে অংশ নিতে না পারলেও আল্লাহ তাআলা তাকে সেই কাজগুলোর সমপরিমাণ সওয়াব দান করেন। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এতেকাফকারী ব্যক্তি গুনাহ থেকে নিরাপদ থাকে এবং সে বাইরে কোনো নেক আমল করতে না পারলেও আমলকারীর সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করে। (ইবনে মাজাহ)
তাছাড়া রমজানের শেষ দশকেই রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এতেকাফের মাধ্যমে একজন মুসলমান সহজেই এই বরকতময় রাত লাভের সুযোগ পেয়ে থাকে। এ কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে এতেকাফ পালনে উৎসাহিত করতেন। একটি বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশ দিন এতেকাফ করবে, সে দুটি হজ ও দুটি ওমরার সমান সওয়াব লাভ করবে। (বায়হাকি)
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, রমজান এমন একটি মাস যেখানে সামান্য আমলেও অনেক বেশি নেকি অর্জন করা সম্ভব। আর এতেকাফের মাধ্যমে সেই নেকি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তাই প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানের উচিত দুনিয়ার ব্যস্ততাকে কিছুটা পিছনে রেখে অন্তত রমজানের শেষ দশকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এতেকাফে অংশ নেওয়া।
তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, আল্লাহ যেন মুসলিম উম্মাহকে এতেকাফসহ বিভিন্ন নেক আমল করার তাওফিক দান করেন এবং রমজানের বরকত থেকে সবাইকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ করে দেন। আমীন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।