
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকায় যৌথ অভিযানে লুণ্ঠিত একটি কাভার্ড ভ্যানসহ ৬১৪টি কম্বল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হকের নেতৃত্বে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুম বিল্লাহসহ পুলিশের একটি দল একাধিক সম্ভাব্য আস্তানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—আব্দুর রহিম (৪২), মো. ফারুক ওরফে বাবু (৪০), মো. রফিকুল ইসলাম (৪০), আব্দুল গাফফার (৩৭) এবং আব্দুর রহমান (৩০)।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চলাচলকারী পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যানকে টার্গেট করে ডাকাতি চালিয়ে আসছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি মহাসড়কের একটি স্থানে চালক ও হেলপারকে জিম্মি করে কম্বলবোঝাই একটি কাভার্ড ভ্যান ছিনতাই করা হয়। পরে ডাকাতরা লুণ্ঠিত কম্বলগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের গোপন আস্তানায় মজুত করে রাখে। অভিযানের সময় পুলিশ লুণ্ঠিত কাভার্ড ভ্যানটি উদ্ধার করার পাশাপাশি অক্ষত অবস্থায় ৬১৪টি কম্বল জব্দ করে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, উদ্ধার হওয়া কম্বলগুলো দেশের অন্য অঞ্চলে সরবরাহ কিংবা ত্রাণ কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য ঢাকা থেকে পরিবহন করা হচ্ছিল। তবে পণ্যের প্রকৃত মালিকানা ও গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ডাকাতি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে চক্রটির মূলহোতা, অন্যান্য সহযোগী এবং লুণ্ঠিত মালামাল কোথায় বিক্রির পরিকল্পনা ছিল, তা উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
মধ্য বেগুনবাড়ী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা।
Design and Developed by: Mehnaz IT