মোঃ শাহজাহান বাশার
শিক্ষা বিস্তার, মানবসেবা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণমূলক নানা কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে চলেছেন কুমিল্লার বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজহিতৈষী মোশারফ হোসেন খান চৌধুরী। তাঁর এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও তাঁর শিক্ষা, সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখালেখি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি আরজে কিবরিয়ার মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম SOCA-তে এক সাক্ষাৎকারে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে জনপ্রিয় উপস্থাপক আরজে কিবরিয়া তাঁকে ‘এই যুগের হাতেম তাই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁর এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর শিক্ষা ও মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ড নতুন করে আলোচনায় আসে।
স্থানীয়ভাবে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ার একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে পরিচিত মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর উদ্যোগ ও প্রতিষ্ঠায় গড়ে উঠেছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তাঁর প্রতিষ্ঠিত উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মোশারফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, আব্দুল মতিন খসরু মহিলা ডিগ্রি কলেজ, ব্রাহ্মণপাড়া, আব্দুর রাজ্জাক খান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, ধান্যদৌল, মুমু-রোহান চাইল্ড কেয়ার প্রি-ক্যাডেট স্কুল, ধান্যদৌল এবং আশেদা যোবেদা ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, ধান্যদৌল।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানেও রয়েছে তাঁর সম্পৃক্ততা। তিনি ব্রাহ্মণপাড়া ডায়াবেটিক হাসপাতালের জমিদাতা, প্রফেসর পাড়া জামে মসজিদের জমিদাতা এবং মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী হাফিজিয়া মাদ্রাসার জমিদাতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন।
শিক্ষার প্রসারে তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়াসহ আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল, মসজিদ ও মাদ্রাসার মতো প্রতিষ্ঠানকে জমি দিয়ে সহযোগিতা করার মাধ্যমে তিনি সামাজিক ও ধর্মীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতেও ভূমিকা রেখেছেন।
এ কারণেই তাঁর এসব কর্মকাণ্ড শুধু স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, আঞ্চলিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বহুবার সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশের বাইরের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সংবাদমাধ্যমেও লেখালেখি ও আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।
ঐতিহাসিকভাবে হাতেম তাই তাঁর উদারতা, দানশীলতা ও মানবিকতার জন্য সুপরিচিত। মানুষের কল্যাণে সম্পদ ব্যয় ও উদারতার কারণে তিনি যুগ যুগ ধরে দানশীলতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। সেই ঐতিহাসিক উপমা থেকেই আরজে কিবরিয়া তাঁর সাক্ষাৎকারে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীকে ‘এই যুগের হাতেম তাই’ বলে অভিহিত করেন।
একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তাঁর পদ-পদবি কিংবা পরিচিতিতে নয়, বরং মানুষের জন্য তিনি কী রেখে যাচ্ছেন—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো সামনে আসে। একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, হাসপাতাল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দান এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে তিনি এলাকার মানুষের জন্য স্থায়ী কিছু করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি প্রজন্মকে আলোকিত করা এবং হাসপাতাল, মসজিদ ও মাদ্রাসার মতো জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অবকাঠামো তৈরি করা নিঃসন্দেহে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ। তাঁর এসব উদ্যোগ বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকতে পারে।
আরজে কিবরিয়ার ‘এই যুগের হাতেম তাই’ মন্তব্য তাই শুধু একটি প্রশংসাসূচক বিশেষণ নয়; বরং তাঁর দীর্ঘদিনের দানশীলতা, শিক্ষা বিস্তার ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি একটি মূল্যায়ন হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার গণ্ডি পেরিয়ে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে আলোচনায় আসা মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর শিক্ষা ও মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে মূল্যায়িত হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
মানুষের জন্য কাজ, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজের জন্য স্থায়ী কিছু রেখে যাওয়াই যদি হয় একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়—তাহলে সেই পরিচয়ের জায়গা থেকেই মোশারফ হোসেন খান চৌধুরী আজ বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার মানুষের কাছে একজন আলোকিত মানুষ। আরজে কিবরিয়ার ভাষায়—‘এই যুগের হাতেম তাই’।

