গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির।।
দেশের অনেক তরুণ সমাজ সামাজিক অবক্ষয় জনিত কারণে ক্রমেই ধ্বংসের দিকে তলিয়ে যাচ্ছে । সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিকতা থাকলেও কিছুতেই এই প্রবণতা রোধ করা যাচ্ছে না। দুর্নীতি, মাদক ও ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি থাকা সত্ত্বেও বেশ কিছু অন্যায়-অপকর্ম মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। কোনোভাবেই সেগুলো প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।
ইদানীং আমরা দেখছি, মাদকের ভয়ংকর নেশা দেশের তরুণ সমাজের একটি বড় অংশকে ধীরে ধীরে গ্রাস করতে চলেছে। শহর ছাড়িয়ে গ্রামাঞ্চলেও তরুণ সমাজে ইয়াবা আসক্তি বাড়ছে। সারা দেশে যেভাবে ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে শঙ্কিত না হয়ে উপায় নেই। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর পরিচালিত মাদকবিরোধী কঠোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি প্রতিবেদনই বলছে, দেশে ইয়াবা আসক্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, সমাজ কি এভাবেই চলতে থাকবে, কোনো রকম প্রতিকারহীনভাবে? গডফাদার কারা? তাদের কি আইনের আওতায় আনা যায় না?
সারা দেশে মাদকের ভয়াবহতার পাশাপাশি আরো দুইটি সমস্যা সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, একটি হলো ধর্ষণ। প্রতিনিয়ত ঘটছে ধর্ষণের মতো নির্মম ঘটনা। অপরটি হলো কিশোর গ্যাং।
আমরা প্রতিনিয়তই দেখি ঘটনা ঘটার পর প্রতিবাদ হয়। এমনকি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও যথেষ্ট তৎপর থাকে এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে। কিন্তু এসবের মূলোৎপাটন করা সম্ভব হচ্ছে না সামাজিক অবক্ষয়ের ফলে।
একদিকে সমাজের সচেতন মহলসহ সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত তৎপর ভূমিকা লক্ষ্য করছি, অন্যদিকে অপরাধপ্রবণতাও বেড়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২৫ সালে সারা দেশে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছে দুই হাজার ৩৪৫ জন নারী। ৪৫৫ জন নারী যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছে ৯০ পুরুষ। ফলে ইদানীং কেউ আর প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছে না।
২০২৬ সালে এসেও এমন সব অপকর্ম থেমে নেই। ১২ ফেব্রুয়ারি একটি গণমাধ্যম সূত্রে জানতে পারলাম, গত ১০ দিনে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছে ৩৬ নারী। সে ক্ষেত্রেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মন্তব্য করেছে, মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঠেকানো না গেলে, শুধু আইনি পদক্ষেপে এ ধরনের অপরাধ ঠেকানো সম্ভব নয়। এহেন সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে সহজে কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না। অবিশ্বাসের প্রবণতাটা দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন অন্যায়-অপকর্মের ফলে সর্বস্তরের মানুষ এক ধরনের শঙ্কা অনুভব করছে।
একটি দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নই একমাত্র উন্নয়ন নয়। সামাজিক মূল্যবোধ ও নীতিবোধ সৃষ্টি এবং তার উন্নয়ন ঘটানোর পরিপ্রেক্ষিতে সর্বস্তরের এবং সব ধরনের অপকর্মের প্রতিরোধ ঘটানো সম্ভব। সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের মূল্যবোধ চর্চার উদ্যোগ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্থায়ী প্রক্রিয়ায় সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ করা যেতে পারে। শুধু গণমাধ্যম ব্যবহার করে সামাজিকভাবে সচেতন করে তোলাই নয়, এ বিষয়ে আলাদাভাবে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করার সময় এসেছে। আমি মনে করি এই মুহূর্তে সরকারের রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাত্রাকে টেকসই করে তুলতে এবং তরুণদের রক্ষা করতে সামাজিক অবক্ষয় থেকে দেশকে রক্ষা করার কাজে মনোযোগী হতে হবে। এটি রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। শুধু বক্তৃতা-বিবৃতি নয়, মাঠপর্যায়ে এ বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক ভূমিকা পালনের বিকল্প নেই।
লেখক: গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির, সাংবাদিক, ধর্ম ও সমাজ বিশ্লেষক, শূরা সদস্য, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও চেয়ারম্যান, গাউছিয়া ইসলামিক মিশন, কুমিল্লা। jahangirjabir5@gmail.com
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
মধ্য বেগুনবাড়ী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা।
Design and Developed by: Mehnaz IT