কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড) তারেক রহমানকে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা ভূমি অফিসে বদলির আদেশ শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী তিনি আবারও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
গত ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) গোলাম মোস্তফা মুন্না স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তারেক রহমানকে ব্রাহ্মণপাড়া থেকে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা ভূমি অফিসে বদলি করা হয়েছিল। তবে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ওই বদলি আদেশ বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
চট্টগ্রাম বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) গোলাম মোস্তফা মুন্না স্বাক্ষরিত ৩ আগস্টের নতুন আদেশে বলা হয়, গত ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা ০৫.৪২.২০০০.০০০.০২১.২৮.০০০১.২৫.৫৪৯ নম্বর প্রজ্ঞাপনমূলে জনাব তারেক রহমান (১৯১৮৩), সহকারী কমিশনার (ভূমি), ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লাকে উপজেলা ভূমি অফিস, মহেশখালী, কক্সবাজারে বদলির আদেশ বাতিল করা হলো।
একই আদেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তাঁর কর্মস্থলের অধিক্ষেত্রের মধ্যে ভূমি-সংক্রান্ত সরকারি পাওনাদি আদায়ের জন্য সরকারি দাবি আদায় আইন, ১৯১৩-এর ৩(৩) ধারামতে সার্টিফিকেট অফিসারের ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
আদেশে আরও বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) গোলাম মোস্তফা মুন্নাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বদলি আদেশ বাতিলের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগের বদলির আদেশ বাতিল করে ৩ আগস্ট পুনরায় প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম বলেন, এসিল্যান্ড তারেক রহমানের বদলি আদেশ রিভাইজ করা হয়েছে। ফলে তিনি পুনরায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে কেন মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একজন কর্মকর্তার বদলি আদেশ বাতিল করা হলো—এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এদিকে এসিল্যান্ড তারেক রহমানকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই কিংবা এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার বদলি, পরবর্তীতে সেই আদেশ বাতিল এবং একই কর্মস্থলে বহাল রাখার ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বদলি আদেশ জারির কয়েক দিনের মধ্যেই তা বাতিল হওয়ায় এর প্রশাসনিক কারণ কী—তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
তবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এবং ‘জনস্বার্থে’ নেওয়া হয়েছে বলে ৩ আগস্টের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, কোন প্রেক্ষাপটে ৩০ জুলাইয়ের বদলি আদেশ জারি করা হয়েছিল এবং মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কেন সেটি বাতিল করে কর্মকর্তাকে আগের কর্মস্থলেই বহাল রাখা হলো। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে এ নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নগুলোর অবসান হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
মধ্য বেগুনবাড়ী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা।
Design and Developed by: Mehnaz IT