সেলিম আহম্মেদ,বাগআঁচড়াঃ
সৌদি আরবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি না দেওয়া এবং পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে বাবা-ছেলেসহ তিনজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যশোরের শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বসতপুর গ্রামের শাহাজান মোল্যা (৬০)।
অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন বসতপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান ভূইয়ার ছেলে মো. শাহাজালাল (৩৫), একই এলাকার মো. আব্দুল ওয়াজেদ মুন্সির ছেলে মো. আল আমিন (৪০), শাহাজালালের স্ত্রী মোছা. হাসিনা খাতুন (৩০) এবং কুমিল্লার দাউদকান্দির মো. হেফাজ উদ্দিন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জানুয়ারি শাহাজান মোল্যার ছেলে মো. আবু রায়হান রিপনকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মো. শাহাজালালের সঙ্গে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকার চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী পুরো টাকা পরিশোধের পর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রিপনকে তিন মাসের টুরিস্ট ভিসায় সৌদি আরবে পাঠানো হয়। তবে সেখানে যাওয়ার পর তাকে কোনো কাজ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তিন মাসের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজের ব্যবস্থা না হওয়ায় রিপন মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অভিযুক্তদের কাছে বারবার কাজের বিষয়ে জানতে চাইলেও তারা সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। প্রায় ছয় মাস পরও কাজের ব্যবস্থা না হওয়ায় অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনেন শাহাজান মোল্যা। বর্তমানে রিপন অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে শাহাজান মোল্যা তার পাওনা টাকা ফেরত চাইতে অভিযুক্তদের কাছে গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে শাহাজান মোল্যা, তার ছেলে আবু রায়হান রিপন ও সঙ্গে থাকা মো. আলাউদ্দিনকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে আবু রায়হান রিপনকে ভর্তি করা হয়েছে।
এ সময় টাকা ফেরত চাইলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করেন শাহাজান মোল্যা। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
তবে অভিযুক্ত মো. শাহাজালাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোনো প্রতারণা বা মারধরের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। সৌদি আরবে চাকরি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে যে লেনদেন হয়েছে, তা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই অভিযোগটি করা হয়েছে। মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুর হক বলেন, অভিযোগটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
মধ্য বেগুনবাড়ী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা।
Design and Developed by: Mehnaz IT