আল আলী হোসেন জনি, স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ঢাকা, চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমতলী অংশে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় গতকাল সন্ধ্যা থেকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা গেছে। এতে হাজারো যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মহাসড়কের ভেঙে যাওয়া ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সেখানে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করা হয়েছে। কাজ চলাকালে সড়কের একটি অংশ দিয়ে সীমিত আকারে যান চলাচল করানো হচ্ছে। ফলে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে এবং যানজট ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সংস্কারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যান চলাচলে বিঘ্ন অব্যাহত থাকতে পারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী উভয় লেনে শত শত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন দীর্ঘ সারিতে আটকে রয়েছে। কোথাও কোথাও যানবাহন কয়েক ঘণ্টা ধরে প্রায় স্থির অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে বিকল্প পথে যাত্রা শুরু করেন।
মহাসড়কের এই যানজটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে কুমিল্লা শহরের প্রবেশপথগুলোতেও। দুর্গাপুর দিঘিরপাড় সড়ক, আলেখারচর থেকে শাসনগাছা পর্যন্ত পুরো এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিকল্প সড়কগুলোতেও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং জরুরি কাজে বের হওয়া ব্যক্তিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আমতলী হাইওয়ে অংশে অনেকদিন ধরে রাস্তাটা ভেঙ্গে এভাবে পড়ে আছে কুসংস্কারের কাজ করা হচ্ছে না ফলে রাস্তাতে থাকা গর্তগুলো কিংবা ভাঙ্গা অংশ গুলো আরো বড় হয়েছে। ফলে যানবাহন ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘ যানজট এড়াতে অনেক চালক বিপরীত লেন ব্যবহার করে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে উভয় পাশের যান চলাচল আরও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ছে। অনেক স্থানে মুখোমুখি অবস্থায় যানবাহন আটকে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে যানজট নিরসনের পরিবর্তে আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। গণপরিবহনের যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় পরিবহন কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ীরা সময়মতো পণ্য পরিবহন করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকা, চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এ মহাসড়কের একটি অংশে যান চলাচল ব্যাহত হলে এর প্রভাব দ্রুত কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তাই দ্রুত সংস্কারকাজ করা এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার, উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যানজট নিরসনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে সড়ক সংস্কারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মহাসড়ক ব্যবহারকারী যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।এই প্রতিবেদনটি জাতীয় দৈনিকের উপযোগী করে লেখা হয়েছে এবং আপনার দেওয়া তথ্যের বাইরে কোনো নতুন দাবি যোগ করা হয়নি।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
মধ্য বেগুনবাড়ী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা।
Design and Developed by: Mehnaz IT