নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর, অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান, লেবানন, কানাডা, ভারত, শ্রীলঙ্কা, সোমালিয়া ও ইরানসহ বিশ্বের ১২টি দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ জিয়ারত করেছেন। বাংলাদেশসহ ১২ দেশের এই প্রতিনিধি দল সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে মাইজভাণ্ডার শরীফে পৌঁছায়।
পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সুফিজের প্রেসিডেন্ট ও দরবারে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর সাজ্জাদানশীন হযরত শাহসুফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মাইজভাণ্ডার শরীফের বিভিন্ন মাজার জিয়ারত করেন।
এ সময় তারা গাউছুল আজম হযরত মাওলানা আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী, সৈয়দ মাওলানা গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডারী, শাহসুফী সৈয়দ আবুল বশর মাইজভাণ্ডারী এবং শাহসুফী সৈয়দ মঈনউদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারীর মাজার জিয়ারত করেন।
জিয়ারত শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রহমানিয়া মঈনিয়া আলিয়া মাদরাসা পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুফিবাদ, আধ্যাত্মিকতা, মানবকল্যাণ ও নৈতিক মূল্যবোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
পরে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হয়। এতে বিভিন্ন দেশের ওলামা-মাশায়েখরা মাইজভাণ্ডার শরীফের আধ্যাত্মিক পরিবেশ, সুফিবাদের চর্চা এবং মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, মানুষের মধ্যে শান্তি, ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সুফিবাদের মানবিক দর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) প্রসঙ্গে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ এবং তাঁর শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, মহানবীর আদর্শের অন্যতম দিক হলো মানবিক মর্যাদা রক্ষা, শান্তি প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা।
শাহসুফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওলামা-মাশায়েখের মাইজভাণ্ডার শরীফ সফর আধ্যাত্মিক ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের এই মিলন পারস্পরিক জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও ভাববিনিময়ের সুযোগ তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, “সুফিবাদের মূল শিক্ষা হলো মানুষের কল্যাণ, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার চর্চা। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একত্রিত করাই সুফিবাদের অন্যতম বার্তা।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিভাজন, সংঘাত ও বিদ্বেষের পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও মানবিকতার চর্চা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ওলামা-মাশায়েখ ও আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১২ দেশের ওলামা-মাশায়েখের এ সফরকে আন্তর্জাতিক পরিসরে সুফি ভাবধারা, আধ্যাত্মিক জ্ঞানচর্চা এবং মানবকল্যাণের বার্তা বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
মধ্য বেগুনবাড়ী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা।
Design and Developed by: Mehnaz IT