গোলাম কিবরিয়া, বিশেষ প্রতিনিধি:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ব্রাহ্মণপাড়া-হরিমঙ্গল সড়কের পার্শ্ববর্তী কৃষিজমি ও জলাশয় থেকে এস্কেভেটর (বেকু) বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার এক তাণ্ডব শুরু হয়েছে। প্রতিনিয়ত ফসলি জমি ও পরিবেশ বিনাশী এই কারবারে মেতে উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী 'মাটিখেকো' চক্র। ফলে এ অঞ্চলের তিন ফসলি কৃষিজমি এখন তীব্র ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, দিন-দুপুরে বেকু মেশিন বসিয়ে অবাধে মাটি কেটে সাবাড় করা হলেও রহস্যজনক কারণে নিরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, মাটিখেকো এই চক্রটি প্রশাসন ও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলকে ম্যানেজ করে কিংবা তাদের ছত্রছায়ায় দীর্ঘ দিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রাহ্মণপাড়া-হরিমঙ্গল সড়কের কোল ঘেঁষে ফসলি জমি ও নিম্নাঞ্চল থেকে এক্সক্যাভেটর (বেকু) দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে পাশের উর্বর কৃষি জমিগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। অনবরত মাটি বহনের ফলে স্থানীয় রাস্তাঘাট ধসে পড়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে এবং ধুলোবালিতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
ক্ষুব্ধ স্থানীয় কৃষকরা জানান, "আমাদের পেটে লাথি মেরে একশ্রেণীর লোভী মানুষ মাটি বিক্রি করে পকেট ভারী করছে। জমির টপসয়েল (ওপরিভাগ) নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আগামীতে ফসল উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না।"
পরিবেশ ও বালুমহাল আইন অনুযায়ী, কৃষিজমির উর্বর অংশ (টপসয়েল) বা পুকুর/জলাশয় কেটে শ্রেণী পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ আইনের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে দিন-রাত এ মাটির ব্যবসা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে এলাকার সচেতন মহল ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা অবিলম্বে মাটি কাটা বন্ধে এবং জড়িত মাটিখেকো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছেন।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
মধ্য বেগুনবাড়ী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা।
Design and Developed by: Mehnaz IT