সাইফুল ইসলাম গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং অস্বস্তিকর কথাবার্তার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের প্রতিবাদে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তসহ অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নিয়ে তাদের অভিযোগ ও দাবির কথা জানায়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ কর্মসূচিতে তারা অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুকুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে , কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, শিক্ষক ফারুকুজ্জামান বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের পোশাক, শারীরিক বিষয় ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন মন্তব্য করতেন, যা তাদের কাছে অস্বস্তিকর। কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করে, নির্দিষ্ট কিছু ছাত্রীকে আলাদাভাবে ডেকে আপত্তিকর কথা বলার ঘটনাও ঘটেছে।
অষ্টম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিজ্ঞান ক্লাসে বয়সন্ধিকাল ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সময় শিক্ষক এমন কিছু মন্তব্য করতেন, যা একজন শিক্ষকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয় বলে তারা জানায়।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী লুনা আক্তার অভিযোগ করে, শিক্ষক তাদের পোশাক ও শারীরিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতেন এবং অনেক সময় আচরণও ভালো ছিল না।
একই শ্রেণির তাইবা আক্তার অভিযোগ করেন, ছাত্রীদের উদ্দেশে শিক্ষক এমন মন্তব্য করেছেন, যা তাদের অস্বস্তিতে ফেলেছে। আরেক শিক্ষার্থী জানায়, শিক্ষক অনেক সময় ছাত্রীদের বিভিন্ন আদুরে নামে সম্বোধন করতেন, যা তাদের কাছে বিব্রতকর বলে মনে হতো।
শিক্ষার্থীদের কয়েকজন আরও অভিযোগ করে, ক্লাসের সময় তাদের পোশাক ও শরীর নিয়ে মন্তব্য করার পাশাপাশি খারাপ ভাষা ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে। কেউ কেউ শিক্ষককে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছে।
এক শিক্ষার্থীর দাবি, তার সাথে ঘটে যাওয়া কোনো এক ঘটনা অন্যদের জানালে সামাজিকভাবে সমস্যায় পড়তে হবে—এমন ধরনের কথা বলে তাকে ভয় দেখানো হয়েছিল। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কে ছিল বলে তারা জানায়।
এ ছাড়া পরীক্ষার ফলাফল দেখানোর বিষয়েও একজন ছাত্রীকে একা আসতে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা। ওই ছাত্রী সঙ্গে একজন বান্ধবীকে নেওয়ার কথা বললে শিক্ষক একা আসার কথা বলেছিলেন, দাবি এক শিক্ষার্থীর।
এসব অভিযোগ সামনে আসার পর শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, বদলি ও অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরি থেকে বহিষ্কারের দাবি জানায়।
বিদ্যালয়ে প্রশাসন কর্মকর্তা বৃন্দ,
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ বিদ্যালয়ে যান। টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার প্রধান শিক্ষক বিলকিস খানমের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
পরে কর্মকর্তাগণ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে গিয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য শোনেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের জানান, অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিলকিস খানম জানান, আগের দিন শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ তার কাছে জানিয়েছিল। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীরা তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। পরে তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করে।
সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তে প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের প্রাথমিক যাচাই শেষে শিক্ষক ফারুকুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিস্তারিত তদন্তে একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের করা অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক ফারুকুজ্জামানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীরা বলছে, পুরো বিষয়টি যেন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয় এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
মধ্য বেগুনবাড়ী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা।
Design and Developed by: Mehnaz IT