হুমায়ুন কবির | বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা
প্রায় এক দশক ধরে বিশাল জনসংখ্যার চাপ, পরিবেশগত ক্ষতি এবং সীমিত সম্পদ ভাগ করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। তবে এই উদারতাকে দুর্বলতা হিসেবে না ভেবে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও কার্যকর সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।
সম্প্রতি বেইজিং সুসং ওয়ান ফোরামে এবং দেশের ভেতরে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে বাংলাদেশ তার অনড় ও কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ অনির্দিষ্টকাল ধরে এই সংকটের বোঝা বয়ে বেড়াবে না।
ঢাকার শক্ত অবস্থানের মূল বিষয়সমূহ:-
বোঝার চিরস্থায়ী অবসান:- মিয়ানমারের রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং জাতিগত সহিংসতার দায় অনন্তকাল ধরে বাংলাদেশ একা বহন করবে না।
কূটনৈতিক চাপ ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা:- আন্তর্জাতিক সমর্থন কেবল মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, তা বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা কৌশল এবং সমন্বিত কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার মূলে আঘাত হানতে হবে। মিয়ানমারকে বুঝতে হবে যে, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ।
মিয়ানমারের স্বীকারোক্তি:- ঢাকার আপসহীন চাপের মুখেই খোদ মিয়ানমারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে তারা একা এই সংকট সমাধান করতে পারছেন না, যা ঢাকার দীর্ঘদিনের দাবিরই সত্যতা প্রমাণ করে।
ন্যায়বিচার বনাম অনুদান:- বাংলাদেশ কোনো করুণা বা অনুদান চাচ্ছে না; বরং জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে ন্যায়বিচার ও স্থায়ী সমাধান দাবি করছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এখন কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের আপসহীন বার্তা তুলে ধরছে। বড় শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক স্বার্থের চেয়ে উন্নয়নশীল দেশের সক্ষমতা ও অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করছে ঢাকা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের এই কঠোর ও বাস্তবমুখী অবস্থান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ববাসীর নজর নতুন করে কাড়তে শুরু করেছে।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
মধ্য বেগুনবাড়ী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা।
Design and Developed by: Mehnaz IT