
জহুরুল ইসলাম জুয়েল, মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
সৌদি রিয়ালের বান্ডিল দেখে বোঝার উপায় নেই ভেতরে কী আছে। প্রতারণার উদ্দেশ্যে পুরোনো খবরের কাগজ বিশেষ কৌশলে কেটে ও ভাঁজ করে তৈরি করা হয়েছিল রিয়ালের বান্ডিল। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে প্রতিটি বান্ডিলের মধ্যে রাখা হয়েছিল মাত্র ৫০ রিয়ালের তিনটি আসল নোট।
মানিকগঞ্জে এক লাখ টাকার বিনিময়ে ১৪ বান্ডিল সৌদি রিয়াল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার চেষ্টার অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় চক্রের আরও এক সদস্য পালিয়ে যায়।
সোমবার মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন রাজ রেস্টুরেন্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার পুলিশ দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানা যায়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মুচনা ইউনিয়নের পাইকদিয়া গ্রামের এনামুল শেখ (৪০) ও আলম শেখ ওরফে আলেম (৫০)। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তির নাম জাহাঙ্গীর শেখ।
পুলিশ ও সদর থানার ওসি মো. মনির হোসেন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার গড়পাড়া ইউনিয়নের ঠাটাংগা শাহে জামে মসজিদের ইমাম মো. ইসমাইল হোসাইন শামীমের সঙ্গে হকারের ছদ্মবেশে পরিচিত হন জাহাঙ্গীর শেখ। বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও মশারি বিক্রির কথা বলে ইমামের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন তিনি।
একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর দাবি করেন, তার কাছে বিপুল পরিমাণ সৌদি রিয়াল রয়েছে। ব্যাংকের মাধ্যমে সেগুলো ভাঙিয়ে নিতে ইমামের সহযোগিতা চান তিনি। এ সময় ইমামের মোবাইল নম্বর নিয়ে চলে যান জাহাঙ্গীর।
পরে শনিবার রাতে জাহাঙ্গীর ফোন করে ইমামের সঙ্গে আরেক ব্যক্তির কথা বলিয়ে দেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে অশিক্ষিত পরিচয় দিয়ে জানান, তার কাছে ১৪ বান্ডিল সৌদি রিয়াল রয়েছে। ব্যাংকের মাধ্যমে রিয়ালগুলো ভাঙিয়ে দিতে ইমামের সহযোগিতা চান তিনি।
পরদিন সকালে তাদের কথামতো মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন রাজ রেস্টুরেন্টের সামনে যান ইমাম ইসমাইল হোসাইন শামীম। সেখানে জাহাঙ্গীরসহ তিনজনের সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় তাদের একজনের হাতে থাকা বাজারের ব্যাগে ১৪ বান্ডিল সৌদি রিয়াল রয়েছে বলে জানানো হয়।
প্রতারকরা ইমামকে জানান, ব্যাংকের মাধ্যমে রিয়াল ভাঙাতে সময় লাগবে। তাই নগদ এক লাখ টাকার বিনিময়ে রিয়ালগুলো নিয়ে নিতে পারেন। এতে অল্প সময়ের মধ্যে বড় অঙ্কের লাভ হবে বলেও তাকে প্রলোভন দেখানো হয়।
তবে বান্ডিলগুলো পরীক্ষা করার সময় ইমালের সন্দেহ হয়। পরে টাকা নিয়ে আবার ঘটনাস্থলে গিয়ে রিয়ালের বান্ডিলগুলো ভালোভাবে পরীক্ষা করেন তিনি। একপর্যায়ে বান্ডিল খুলতেই বেরিয়ে আসে পুরোনো খবরের কাগজ।
পুলিশ জানায়, প্রতারকরা পুরোনো খবরের কাগজ বিশেষ কৌশলে কেটে ও ভাঁজ করে রিয়ালের বান্ডিলের আকৃতি দিয়েছিল। প্রতারণার বিষয়টি যাতে সহজে ধরা না পড়ে, সেজন্য বান্ডিলের মধ্যে রাখা হয়েছিল ৫০ রিয়ালের মাত্র তিনটি আসল নোট।
এ নিয়ে ইমামের সঙ্গে প্রতারকদের বাগবিতণ্ডা শুরু হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। তারা তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এনামুল শেখ ও আলম শেখকে আটক করে। এ সময় সুযোগ বুঝে জাহাঙ্গীর শেখ পালিয়ে যান।
পুলিশের দাবি, আটক এনামুল শেখের কাছ থেকে একটি বাজারের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যাগের ভেতরে গামছায় মোড়ানো খবরের কাগজ দিয়ে তৈরি বান্ডিল এবং ৫০ রিয়ালের তিনটি সৌদি নোট পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ইমাম মো. ইসমাইল হোসাইন শামীমের অভিযোগের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জুলুস খান পাঠান জানান, পলাতক জাহাঙ্গীর শেখসহ প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
মধ্য বেগুনবাড়ী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা।
Design and Developed by: Mehnaz IT