হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ, (সাতক্ষীরা):
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব নলতা গ্রামের নুর ইসলাম ড্রাইভারের (সাবেক) ছেলে শাহিনুর রহমান শাহীন (শাহীন)-এর বিরুদ্ধে সুকৌশলে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা এবং উল্টো পাওনাদারকে মামলা-হামলার হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ীর বিবিরবাগিচা ৪ নম্বর গেট ভাড়া থাকেন, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী সুরেশ্বর মহোৎস বাজাররে, (ফাতেমা এন্টার প্রাইজ) নামে আড়ত ভাড়া নিয়ে এই প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আড়তের আড়ালে প্রতারণার জাল, অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহীন দীর্ঘদিন ধরে যাত্রাবাড়ী এলাকায় সাদা মাছের কমিশনের ব্যবসার আড়ত পরিচালনা করে আসছেন। ব্যবসায় কখনো লাভ আবার কখনো লোকসানের ধুয়া তুলে তিনি সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবনযাপন করা শাহীন বিভিন্ন জেলার সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে নিজের আখের গোছানোই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
অভিনব কায়দায় অর্থ ধার ও টালবাহানা একই এলাকার (পশ্চিম নলতা) হাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুবাদে বিভিন্ন সময়ে ১ লাখ, ৩ লাখ থেকে শুরু করে প্রায় ৪/৫ লাখ টাকা ধার নেন শাহীন। চুক্তি অনুযায়ী মাস শেষে লাভ-লোকসান যা-ই হোক না কেন, নির্দিষ্ট কিছু টাকা লভ্যাংশ বা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই শাহীন সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে টাকা দিতে সরাসরি অস্বীকার করেন।
সালিসে অস্বীকৃতি ও মামলা-হামলার হুমকি
ভুক্তভোগী হাফিজুর রহমান স্থানীয় গণ্যমান্য ও নিকটতম বন্ধুদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলে, শাহীন সালিশি সমাজের কোনো তোয়াক্কা করেননি। উল্টো তিনি ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে পাওনাদারদের মিথ্যা মামলা ও হামলার হুমকি দেন। এমনকি আলোচনা চলাকালীন অশালীন ও মানহানিকর কথাবার্তা বলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে তোলেন। পরিবার ও সাক্ষীদের রহস্যজনক ভূমিকা ঘটনাটি অত্যন্ত শালীনতার সাথে শাহীনের পরিবারকে (বাবা ও মাকে) জানানো হলে তারা প্রথমে টাকা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। কিন্তু পরবর্তীতে শাহীনের সাথে কথা বলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান। অন্যদিকে, ঘটনার প্রাথমিক সাক্ষী ও মধ্যস্থতাকারীরা এখন রহস্যজনক কারণে ফোন ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন, যা এই প্রতারণাকে আরও ঘনীভূত করেছে।
আইনের আশ্রয় নেওয়ায় আরও বেপরোয়া হুমকি
পাওনা টাকা আদায়ে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী হাফিজুর রহমান শাহীনের দেওয়া ব্যাংক চেক, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, ছবি এবং অন্যান্য দাপ্তরিক ডকুমেন্টসহ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্ত শাহীন আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এবং হাফিজুর রহমানকে প্রাণনাশের ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে চলেছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মহলের দাবি, অবিলম্বে এই প্রতারক শাহীনুর রহমান শাহীনকে আইনের আওতায় এনে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে সাধারণ মানুষ এমন প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পায়।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
মধ্য বেগুনবাড়ী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা।
Design and Developed by: Mehnaz IT