মোঃ কুতুব উদ্দিন কেরানীগঞ্জ /ঢাকা
ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার শাক্তা ইউনিয়নে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যক্তিগত জমিকে সরকারি রাস্তা দেখিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শাক্তা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, শাক্তা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আরশীনগর এলাকায় কাজল দেওয়ানের বাড়ির পাশে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী জাহিদা বেগম অভিযোগ করেন, সকাল ১০টার দিকে বিএনপি নেতা মাইনুদ্দিনের নির্দেশে ভেকু (এক্সক্যাভেটর) দিয়ে তাদের বাড়িঘর ভেঙে জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয়। এই হামলায় কয়েকশ ‘কিশোর গ্যাং’ সদস্যকে ভাড়ায় নিয়ে আসা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
জাহিদা বেগম আরও জানান, মাইনুদ্দিনের প্রত্যক্ষ নির্দেশে বাশার, রাজিবসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি সরাসরি এই ভাঙচুর ও তাণ্ডবে অংশ নেয়। চোখের সামনে নিজেদের বসতবাড়ি ভাঙতে দেখে নিরুপায় হয়ে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন। খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে দখলদাররা আপাতত ভাঙচুরের কাজ বন্ধ রাখে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন। এছাড়া অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, সরকারিভাবে ওই জায়গায় রাস্তার জন্য টেন্ডার হয়েছে। তবে উপজেলা এলজিইডি, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ও শাক্তা ইউনিয়ন পরিষদে খোঁজ নিয়ে তাদের এই দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যক্তিগত এই জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
সার্বিক বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) জামিলুল হক কালবেলাকে জানান, ‘৯৯৯-এ কল পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। উপস্থিত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এলাকাবাসীর দাবি, একটি চক্র মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে এলাকায় জমি দখলের মতো অপকর্মে মেতে উঠেছে। তারা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
মধ্য বেগুনবাড়ী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা।
Design and Developed by: Mehnaz IT