জাহুরুল ইসলাম জুয়েল, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ঘিওরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালটির মেডিকেল অফিসার ডা. এমদাদুল হক ইমনের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ঘিওর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে অবস্থিত ঘিওর আধুনিক হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ইতি (২০) নামের এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করেন ওই চিকিৎসক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল ডা. এমদাদুল হক ইমনের। কিন্তু দায়িত্ব চলাকালে ঘিওর আধুনিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তিনি সেখানে যান এবং অস্ত্রোপচারে অংশ নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অস্ত্রোপচারের নথিতে অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক হিসেবে ডা. পুতুলের নাম উল্লেখ করা হয়। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুতুল নামে কোনো অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক মানিকগঞ্জে কর্মরত নেই। তিনি মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ১২০ নম্বর কক্ষে রোগীদের সিরিয়াল দেওয়ার কাজে নিয়োজিত। চিকিৎসক এমদাদুল হক ইমনের সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানা গেছে।
ঘিওর আধুনিক হাসপাতালের রিসেপশনিস্ট আলো আক্তার, সিনিয়র নার্স বাসনা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হোসেনের বক্তব্যে ওই চিকিৎসকের হাসপাতালে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডা. এমদাদুল হক ইমন এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে একটি প্রাইভেটকারে হাসপাতালে আসেন। পরে অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করে অস্ত্রোপচার শেষে সন্ধ্যার আগেই হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হোসেন জানান, ইতি নামের এক প্রসূতির অস্ত্রোপচারের জন্য তিনি মুঠোফোনে চিকিৎসক এমদাদুল হক ইমনকে অনুরোধ করেন। পরে তিনি ডা. পুতুলকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে আসেন এবং অস্ত্রোপচার শেষে চলে যান।
অন্যদিকে, পুতুল জানান, বিকেলে তিনি হাসপাতাল থেকে একটি প্রাইভেটকারে চিকিৎসক এমদাদুল হক ইমনের সঙ্গে ঘিওর আধুনিক হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করলেও তিনি অপারেশন থিয়েটারের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসক ইমন তাকে নিজের সহকারী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন বলেও দাবি করেন তিনি। অস্ত্রোপচার শেষে তারা একই গাড়িতে ফিরে আসেন এবং তাকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দেওয়া হয়।
মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক এমদাদুল হক ইমনের অস্ত্রোপচার করার বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ছাড়া ঘিওর আধুনিক হাসপাতালের লাইসেন্স ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পর আর নবায়ন করা হয়নি বলে জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক এমদাদুল হক ইমন। তিনি বলেন, “আমি ঘিওর আধুনিক হাসপাতালে যাইনি।”
মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আইভি ফেরদৌস বলেন, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অন্য কোনো হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। চিকিৎসক ছাড়া অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ারও সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া বলেন, দায়িত্ব পালনকালে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া চাকরিবিধি লঙ্ঘনের শামিল। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
মধ্য বেগুনবাড়ী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা।
Design and Developed by: Mehnaz IT