আল আলী হোসেন জনি, স্টাফ রিপোর্টার
নেত্রকোনার সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কুমিল্লায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা। তাঁরা সাগর-রুনী ও সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কুমিল্লায় মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা (মাসাস) কার্যালয়ে ওয়ার্ল্ড মিডিয়া প্রেস ক্লাব, কুমিল্লার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড মিডিয়া প্রেস ক্লাব কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া। আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা (মাসাস)-এর আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মিঠু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাসাসের চেয়ারম্যান মীরজা ফসিহ উদ্দিন আহমেদ। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মিঠু বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর পার হয়ে গেলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের রহস্যও এখন পর্যন্ত উদ্ঘাটিত হয়নি। সাংবাদিক হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের বিচার দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাগর-রুনী ও সাংবাদিক আলিফ হত্যাসহ সারা দেশে সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত হত্যা, হামলা ও নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের বিচারে দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটাতে হবে। কোনো অপরাধী রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে যেন আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে না পারে। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক আলিফসহ দেশে নিহত সব সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা এবং তাঁদের ওপর হামলার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে মীরজা ফসিহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হত্যা, হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক যেন জীবন ও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে না পড়েন, সে বিষয়ে রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সাগর-রুনী ও সাংবাদিক আলিফসহ নিহত সাংবাদিকদের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সমাবেশে বক্তব্য দেন সাপ্তাহিক দেশ পত্রের প্রধান সম্পাদক জুয়েল খন্দকার, সময় এডিশনের সম্পাদক শাহরিয়া সিকদার, দৈনিক জনতার মতামতের প্রতিনিধি আলী হোসেন জনি, জয়যাত্রার সম্পাদক মীরজা সাইদিয়া আইরিন জ্যোতি এবং জয়যাত্রার বার্তা সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পারভেজ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন মো. আব্দুস সালাম, মোশারফ হোসেন, বাবুল হোসেন, মীজান ও খোরশেদ আলমসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতন বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার জন্য সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে হত্যা, হামলা, মামলা কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে সাংবাদিকরা যাতে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার না হন, সে জন্য কার্যকর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো পর্যালোচনা করে নিরপরাধ সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধ এবং প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সমাবেশ ও মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন, জড়িতদের গ্রেপ্তার, সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত এবং সারা দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
মধ্য বেগুনবাড়ী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা।
Design and Developed by: Mehnaz IT