নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার শান্তিধারা আবাসিক এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ১ নম্বর রোডে দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে ব্যবহৃত ১২ ফুট প্রশস্ত রাস্তা দখল করে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ফারুক হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট একটি নথিতে ফারুক হাওলাদারকে ‘যুবলীগ নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তা দখল করে দেয়াল নির্মাণের বিষয়ে রাজউক ও সংশ্লিষ্ট থানা থেকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। বরং নোটিশের পরও কাজ অব্যাহত রাখার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উল্লিখিত রাস্তাটি আর.এস. ১৭ ও ০২ নম্বর দাগের জমির ওপর দিয়ে গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, ০২ নম্বর দাগের জমির মালিকেরা রাস্তার জন্য নিজ নিজ জমি থেকে ৬ ফুট করে জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন। একইভাবে ১৭ নম্বর দাগের অধিকাংশ মালিকও রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ছেড়েছেন। তবে ১৭ নম্বর দাগের মালিক ফারুক হাওলাদার নিজের অংশের জায়গা না ছেড়ে রাস্তার মুখে দেয়াল নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে দীর্ঘদিনের ১২ ফুট প্রশস্ত রাস্তার স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। রাজউক ও থানা থেকে নোটিশ দেওয়ার পরও নির্মাণকাজ চলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগকারীদের দাবি, নির্মাণকাজের বিষয়ে ফারুক হাওলাদার বিভিন্ন সময় হুইপ নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বিভিন্ন মন্ত্রীর প্রভাব-প্রতিপত্তির কথা উল্লেখ করছেন। এ বিষয়ে হুইপের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এদিকে নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির উপস্থিতি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, এ পরিস্থিতির কারণে অনেক বাসিন্দা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। পাশাপাশি ফারুক হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি রেকর্ডে ৩৮টি মামলার তথ্য রয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে মামলাসংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাইসাপেক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাস্তার প্রকৃত মালিকানা, দীর্ঘদিনের ব্যবহার, জমির দলিল, আর.এস. রেকর্ড এবং রাজউকের অনুমোদিত নকশা যাচাই করে এ বিষয়ে আইনানুগ সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে রাস্তা দখল ও নির্মাণকাজের অভিযোগের সত্যতা নিরূপণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে জমির দলিল ও রাজউকের অনুমোদিত নকশা যাচাই, বিধিবহির্ভূত নির্মাণকাজ বন্ধ এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আইনগতভাবে রাস্তার প্রস্থ ১২ ফুট প্রাপ্য হলে তা পুনর্বহালেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তদন্তে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
মধ্য বেগুনবাড়ী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা।
Design and Developed by: Mehnaz IT