ঢাকাWednesday , 23 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কলাম
  9. কুমিল্লা জেলার খবর
  10. খেলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা খবর
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. দৈনিক জনতার মতামত পরিবার
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রবাসের কষ্টার্জিত অর্থে জন্মভূমিতে শিক্ষার স্বপ্ন নিউইয়র্কের ট্যাক্সিচালক থেকে কুমিল্লারয় শিক্ষার আলোর কারিগর মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী

News Admin
September 23, 2026 7:20 pm
Link Copied!

৯৩

মোঃ শাহজাহান বাশার

এক হাতে ট্যাক্সির স্টিয়ারিং, অন্য হাতে জন্মভূমির মানুষের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন—প্রবাসজীবনের দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় এভাবেই কেটেছে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামের কৃতি সন্তান মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্যস্ত সড়কে দিন-রাত ট্যাক্সিক্যাব চালিয়ে যে অর্থ উপার্জন করেছেন, তার একটি বড় অংশ তিনি নিজের আরাম-আয়েশ কিংবা ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধিতে ব্যয় না করে উৎসর্গ করেছেন জন্মভূমির শিক্ষা ও জনকল্যাণে। তাঁর উদ্যোগ ও অর্থায়নে ধান্যদৌল ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, লাইব্রেরি, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গড়ে উঠেছে। একটি গ্রামের মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে একজন প্রবাসীর ব্যক্তিগত স্বপ্ন কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক উদ্যোগে পরিণত হতে পারে, ধান্যদৌলের এই গল্প তারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ তাঁর শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাঁর উদ্যোগটি দেশ-বিদেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে অর্জিত অর্থ জন্মভূমির শিক্ষা বিস্তারে ব্যয় করার বিষয়টি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাঁর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিতরা মনে করেন, মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর উদ্যোগের মূল শক্তি ছিল নিজের শেকড়ের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের জীবন পরিবর্তনের বিশ্বাস।

মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর জন্ম কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামে। শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি, গ্রামের মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং শিক্ষা থেকে পিছিয়ে থাকা পরিবারের বাস্তবতা তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পরবর্তী সময়ে জীবিকার প্রয়োজনে তিনি পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। নিউইয়র্কের মতো ব্যস্ত মহানগরে নিজের অবস্থান তৈরি করতে তাঁকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় ট্যাক্সিক্যাব চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছেন তিনি। প্রবাসজীবনের ব্যস্ততা, পরিবার থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকা এবং নানা বাস্তব প্রতিকূলতার মধ্যেও জন্মভূমির মানুষের কথা ভুলে যাননি।

বরং যত দূরেই গেছেন, নিজের গ্রামের মানুষের জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা ততই শক্তিশালী হয়েছে। তাঁর কাছে প্রবাসে উপার্জিত অর্থ কেবল ব্যক্তিগত সচ্ছলতার মাধ্যম ছিল না; জন্মভূমির মানুষের ভবিষ্যৎ নির্মাণেরও একটি সুযোগ ছিল। সেই চিন্তা থেকেই শুরু হয় তাঁর শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড।

১৯৯৭ সালে ধান্যদৌল গ্রামে ‘আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী হাই স্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাঁর এই দীর্ঘ সামাজিক উদ্যোগের সূচনা। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পর তিনি থেমে থাকেননি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা বিস্তারের পরিধি বাড়াতে একের পর এক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যান। তাঁর উদ্যোগ ও অর্থায়নে গড়ে ওঠে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, মরিয়ম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আলহাজ্ব আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী হাইস্কুল কাম কারিগরি কলেজ, মুম-রোহান চাইল্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল এবং ধান্যদৌল আশেদা-জোবেদা খান চৌধুরী ফোরকানিয়া মাদ্রাসা। এর পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী ফাউন্ডেশন।

একজন ব্যক্তির উদ্যোগে এতগুলো প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পেছনে যে চিন্তাটি কাজ করেছে, তার কেন্দ্রে ছিল শিক্ষা। কারণ তাঁর বিশ্বাস, কোনো এলাকার স্থায়ী উন্নয়ন শুধু রাস্তা, সেতু কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব নয়; প্রয়োজন শিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম তৈরি করা। সেই লক্ষ্যেই তিনি প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কারিগরি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

স্থানীয়ভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের বিস্তারের ফলে ধান্যদৌল ও আশপাশের এলাকার শিক্ষাব্যবস্থায় একটি নতুন পরিসর তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। দরিদ্র, অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বা নামমাত্র খরচে শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টিকেও তাঁর উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তানদের জন্য শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবাকেও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। ধান্যদৌল ও আশপাশের এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে একটি মেডিকেল ক্লিনিক/হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জ্ঞানচর্চা ও পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে দুটি আধুনিক লাইব্রেরি। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাঠাগার, ধর্মীয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এলাকাটিতে একটি বিস্তৃত সামাজিক পরিসর তৈরি হয়েছে।

তাঁর কর্মকাণ্ডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি প্রবাসে থেকেও নিজের গ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছেন। নিউইয়র্কের ব্যস্ত জীবন তাঁকে নিজের শেকড় থেকে দূরে সরিয়ে দেয়নি। বরং প্রবাসের অভিজ্ঞতা ও অর্জনকে তিনি জন্মভূমির উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। নিজের গ্রামের মানুষের সন্তানরা যাতে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে চিন্তা থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবা-মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তাঁর সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের অন্যতম অনুপ্রেরণা। তাঁদের স্মৃতি ও মূল্যবোধকে ধারণ করেই তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ তাঁর কাছে সমাজসেবা ছিল কেবল দান করার বিষয় নয়; বরং পারিবারিক মূল্যবোধ, মানবিক দায়িত্ববোধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতার একটি প্রকাশ।

মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর জীবনকাহিনিতে প্রবাসজীবনের ত্যাগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্কে দীর্ঘ সময় ট্যাক্সিক্যাব চালানো কোনো সহজ পেশা নয়। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, নগরজীবনের ব্যস্ততা এবং প্রতিদিনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি উপার্জন করেছেন। সেই উপার্জনের একটি বড় অংশ আবার জন্মভূমির মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। প্রবাসজীবনের এই শ্রম ও সঞ্চয়কে তিনি ব্যক্তিগত সম্পদে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক সম্পদে রূপান্তর করার চেষ্টা করেছেন।

এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে স্থানীয়ভাবে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। এলাকার মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন প্রবাসী নন; শিক্ষা বিস্তারের একজন উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী হিসেবেও পরিচিত। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

একটি গ্রামের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শিক্ষার ভূমিকা সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী। একটি বিদ্যালয় একটি প্রজন্ম তৈরি করতে পারে, একটি কলেজ একটি অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার পথ খুলে দিতে পারে, একটি লাইব্রেরি পাঠাভ্যাস তৈরি করতে পারে এবং একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠান তরুণদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে পারে। এই বাস্তবতা থেকেই মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর উদ্যোগকে শুধু কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণের ঘটনা হিসেবে দেখার পরিবর্তে একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবেও দেখা যায়।

তবে যেকোনো শিক্ষা উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান, দক্ষ শিক্ষক, স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা, আধুনিক অবকাঠামো এবং শিক্ষার্থীদের অর্জনের ওপর। ফলে তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও মানোন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একজন উদ্যোক্তার উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলতে স্থানীয় জনগণ, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর উদ্যোগের আরেকটি তাৎপর্য রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লাখ লাখ বাংলাদেশি বসবাস ও কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই নিজ নিজ এলাকার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন এবং বিভিন্নভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখেন। মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর কর্মকাণ্ড সেই প্রবাসী সম্পৃক্ততারই একটি ব্যক্তিগত উদাহরণ, যেখানে প্রবাসে অর্জিত অর্থ ও অভিজ্ঞতাকে জন্মভূমির উন্নয়নে কাজে লাগানোর চেষ্টা রয়েছে।

আজকের বিশ্বে একটি এলাকার উন্নয়নকে শুধু ভৌগোলিক সীমার মধ্যে দেখা হয় না। প্রবাসী জনগোষ্ঠী, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ একটি অঞ্চলের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে পারে। ধান্যদৌলের এই উদ্যোগ সেই বৃহত্তর বাস্তবতার সঙ্গেও যুক্ত।

নিজের জন্য বিলাসী জীবন, বিপুল সম্পদ কিংবা ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবর্তে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে দর্শন তিনি অনুসরণ করেছেন, সেটিই তাঁর কর্মকাণ্ডের মূল বৈশিষ্ট্য। তাঁর বিশ্বাস—মানুষকে সম্পদ দিয়ে সাময়িকভাবে সহায়তা করা যায়, কিন্তু শিক্ষা তাকে দীর্ঘমেয়াদে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে পারে। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণকে সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

এই কারণেই স্থানীয় মানুষের একটি অংশ তাঁকে শিক্ষার আলোর ফেরিওয়ালা হিসেবে অভিহিত করেন। উপাধিটি আনুষ্ঠানিক নয়, বরং তাঁর দীর্ঘদিনের শিক্ষা উদ্যোগের প্রতি স্থানীয় মানুষের মূল্যায়নের একটি প্রতিফলন। ধান্যদৌল গ্রামের মানুষের কাছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শুধু ভবন বা শিক্ষা কার্যক্রমের স্থান নয়; এগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন দেখার জায়গা।

প্রবাসের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে অর্জিত অর্থ দিয়ে জন্মভূমিতে শিক্ষা বিস্তারের এই দীর্ঘ যাত্রা তাই একটি ব্যক্তিগত গল্পের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে। এটি শেকড়ের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতা, শিক্ষার প্রতি বিশ্বাস এবং সামাজিক উন্নয়নে ব্যক্তিগত উদ্যোগের একটি গল্প। নিউইয়র্কের ব্যস্ত সড়ক থেকে কুমিল্লার ধান্যদৌল—দুই ভিন্ন ভূগোলকে নিজের শ্রম ও স্বপ্নের মাধ্যমে যুক্ত করেছেন মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী।

একদিন হয়তো তাঁর প্রতিষ্ঠিত কোনো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দেশের বড় কোনো প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবে, কোনো কলেজের শিক্ষার্থী বিজ্ঞানী, শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক কিংবা উদ্যোক্তা হবে, কোনো লাইব্রেরির বই পড়ে কোনো শিশু নিজের জীবনের নতুন স্বপ্ন খুঁজে পাবে। তখন একজন প্রবাসীর দীর্ঘদিনের শ্রম, ত্যাগ ও বিনিয়োগের প্রকৃত ফল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সাফল্য তার ভবন নয়—সেখান থেকে তৈরি হওয়া মানুষ।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার ধান্যদৌল গ্রামের সন্তান মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তাই স্থানীয় মানুষের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে সম্পৃক্ত হওয়ার একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত হিসেবেও আলোচনায় আসতে পারে। তাঁর জীবনের পথচলা মনে করিয়ে দেয়—প্রবাসের দূরত্ব যতই দীর্ঘ হোক, মানুষের শেকড়ের প্রতি ভালোবাসা এবং সমাজের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থাকলে সেই দূরত্ব অতিক্রম করা সম্ভব। আর একটি মানুষের সেই স্বপ্ন যখন একটি গ্রামের হাজারো মানুষের শিক্ষার সুযোগ তৈরির সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন ব্যক্তিগত সাফল্য ধীরে ধীরে রূপ নেয় সামাজিক সম্পদে।

লেখক: মোঃ শাহজাহান বাশার 
সাংবাদিক, দৈনিক জনতার মতামত ও দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিন
যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলাদেশ অনলাইন গণমাধ্যম সম্পাদক পরিষদ, ঢাকা

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।