নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
কুমিল্লা মর্ডান হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব নুসরাত সুলতানা সহ চারজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, তারা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বিরোধী কার্যক্রমে জড়িত এবং স্কুলকে নিয়ে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য প্রদান করছেন।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত কাজ শুরু করে। কমিটির সার্বিক পর্যালোচনা ও সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহের পরে এই বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রণীত হয়। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযোগসমূহ আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্টদের কর্মকাণ্ড কুমিল্লা মর্ডান হাই স্কুলের শৃঙ্খলা এবং সুনামের পরিপন্থী।
তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে বলেছে যে, শিক্ষকদের অনৈতিক ও অসাংগঠনিক কার্যক্রম শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তির ক্ষতি করেছে না, বরং শিক্ষার্থীদের মানসিক পরিবেশ ও বিদ্যালয়ের নৈতিক পরিবেশের ওপরও প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে, স্কুল সম্পর্কিত মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক মাধ্যম এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সুনামের ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিবেদনে শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটি জানিয়েছে, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে, কুমিল্লা মর্ডান হাই স্কুল তার সম্মান ও প্রতিষ্ঠার স্বাভাবিক মান বজায় রাখতে সক্ষম হবে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর তা গুরুতরভাবে গ্রহণ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন, অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোও এই প্রতিবেদনের প্রতি সদর্থক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও সুনাম রক্ষা করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
একজন অভিভাবক জানান, “বিদ্যালয়ের নাম ও শিক্ষার মান ক্ষুণ্ণ হওয়ার কোনো সুযোগ আমরা মেনে নিতে পারি না। যারা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপ জরুরি।”
এদিকে, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সমাজও এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন।