এনামুল কবির সোহেল, পিরোজপুর:
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় কর্তৃপক্ষের কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭টি চাম্বল ও মেহগনি গাছ বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গাছ কাটার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ১ নং ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের মেদিরাবাদ গ্রামের ৩ নং মেদিরাবাদ-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষকের নাম মো. ফরিদ মোল্লা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি প্রধান শিক্ষক মো. ফরিদ মোল্লা বিদ্যালয়ের সীমানায় থাকা ৭টি চাম্বল ও মেহগনি গাছ কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি না নিয়েই গোপনে বিক্রি করে দেন। গাছ কাটার সময় বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়।
গাছ ক্রেতা মো. মন্নান বলেন, “আমি ১০ হাজার টাকায় ৭টি চাম্বল ও মেহগনি গাছ ক্রয় করি। গাছগুলো বিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় এগুলো যে সরকারি বা বিদ্যালয়ের গাছ, তা আমি বুঝতে পারিনি।”
এদিকে ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধানে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক মো. ফরিদ মোল্লা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সংবাদকর্মীদের ম্যানেজ করার চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে গাছ বিক্রির কথা মেনে নিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করেন।
অনিয়মের এই বিষয়টি ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসানকে জানানো হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বদিউজ্জামানকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।