নিজস্ব প্রতিবেদক
সাভারের কর্ণপাড়া এলাকায় অবস্থিত তানভীর থ্রেড (পূর্ব নাম: ডিপজল ফুড) কারখানায় ফের অবৈধ গ্যাস সংযোগ সনাক্ত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর আগেও একাধিকবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও চতুর্থবারের মতো আবারও অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করায় সংযোগ কেটে দেওয়া হয়।
আজ (অদ্য) সাভারের উলাইল ইউনিয়নের কর্ণপাড়া এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট অভিযানে এই অবৈধ সংযোগ ধরা পড়ে। অভিযানে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং কারখানার প্রতিনিধিকে ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
কারখানায় পাওয়া স্থাপনা ও লোডের বিবরণ
অভিযানকালে কারখানায় যে সকল গ্যাসচালিত স্থাপনা ও লোড সনাক্ত করা হয়, তা হলো—বয়লার: ২টি,ক্ষমতা: (১৩৮০ + ৪০০) = ১৭৮০ কেজি/ঘণ্টা,মাসিক গ্যাস লোড: ৫৩,৪৬৯ ঘনমিটার,আনুমানিক মাসিক গ্যাস চুরি: ১৬,৩০,৮০৪ টাকা
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অবৈধভাবে এত বিপুল পরিমাণ গ্যাস ব্যবহারের ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দীর্ঘদিন ধরে বড় অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, উক্ত প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ইতিপূর্বে অন্তত তিনবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুনরায় অবৈধ সংযোগ গ্রহণ করা হয়, যা চরম দায়িত্বহীনতা ও আইন অমান্যের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ গ্যাস সংযোগ শুধু রাষ্ট্রের ক্ষতিই করছে না, বরং এটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিও সৃষ্টি করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকলেও কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে নির্বিঘ্নে গ্যাস ব্যবহার করে আসছে। তারা এই ধরনের অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানান।
বারবার সতর্কতা ও সংযোগ বিচ্ছিন্নের পরও একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নিয়মিত অভিযান ও আইনের কঠোর প্রয়োগই পারে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করতে।