মোঃ মহিবুল্লাহ মেহেদী
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা

উত্তরের কয়েকটি জেলা নিয়ে সম্ভাব্য ‘বগুড়া বিভাগ’ গঠনের আলোচনা সামনে আসতেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে গাইবান্ধা। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় চললেও জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সচেতন নাগরিকদের বড় একটি অংশ বলছেন—গাইবান্ধার ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্যের শিকড় রংপুর অঞ্চলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই যেকোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আগে স্থানীয় জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সম্প্রতি বগুড়ায় আয়োজিত এক সেমিনারে বগুড়া, গাইবান্ধা, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও সিরাজগঞ্জকে নিয়ে পৃথক ‘বগুড়া বিভাগ’ গঠনের পক্ষে মত দেন কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য। তাদের মতে, বগুড়াকে বিভাগে উন্নীত করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও বিকেন্দ্রীকরণ হবে এবং সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে।

এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। গাইবান্ধার অনেকেই মত প্রকাশ করেন, প্রশাসনিক সুবিধার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও জেলার সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়।

স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মতে, গাইবান্ধার ভাষা, ভাওয়াইয়া সংগীত, কৃষিনির্ভর জীবন, লোকসংস্কৃতি ও সামাজিক রীতিনীতি দীর্ঘদিন ধরে রংপুর অঞ্চলের অন্যান্য জেলার সঙ্গে একই ধারায় বিকশিত হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্থানীয় জনগণের মতামত নেওয়া জরুরি।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০১০ সালে রংপুর বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে। সেই বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা হিসেবে গাইবান্ধার অবস্থান কেবল প্রশাসনিক নয়, বরং ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।

সুন্দরগঞ্জের ভাওয়াইয়া গানের গীতিকার ও সুরকার রেজাউল ইসলাম বলেন, “ভাওয়াইয়া উত্তরবঙ্গের মানুষের আত্মপরিচয়ের অংশ। গাইবান্ধার সাংস্কৃতিক শিকড় রংপুর অঞ্চলের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন বিভাগ গঠনের বিষয়টি এখনো আলোচনা ও প্রস্তাবনার পর্যায়ে রয়েছে। সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উন্নয়ন ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ অব্যাহত থাকুক, তবে গাইবান্ধার ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয় যেন অক্ষুণ্ন থাকে। ভবিষ্যতের যেকোনো সিদ্ধান্তে জনমত, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।