ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বন্ধু রুবেল আহমেদ আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, রিমান্ড শেষে রুবেলকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।

গত ২১ জানুয়ারি মধ্যরাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় সিআইডি রুবেলকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালত তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে আরও তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।

জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। তদন্তের দায়িত্ব প্রথমে ডিবি পুলিশের কাছে ছিল।

তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। তবে অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী নারাজি আবেদন করেন। পরে আদালত মামলাটির তদন্তভার সিআইডিকে দেন।

বর্তমানে মামলার কয়েকজন আসামি পলাতক রয়েছেন। তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।