নিজস্ব,প্রতিনিধি, ঢাকা, ১৭ জুলাই (বৃহস্পতিবার), ২০২৫:
গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার ঠেকাতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিষ্ট্রিবিউশন পিএলসি-এর নেতৃত্বে আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলায় একযোগে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে শত শত অবৈধ আবাসিক ও শিল্প কারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা ও মামলা করা হয়েছে।


১৬ জুলাই, বুধবার, ২০২৫ তারিখে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব হাসিবুর রহমান-এর নেতৃত্বে সাভারের আশুলিয়া এলাকায় ইউসুফ মার্কেট, রংপুর মার্কেট এবং ধনাইদ মাল্টি মডার্ন রোড এলাকায় তিনটি স্পটে অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় প্রায় ১.৫ কিলোমিটার অবৈধ বিতরণ লাইন উন্মোচন করে আনুমানিক ৬০০টি অবৈধ আবাসিক বার্নারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। একইসাথে বিভিন্ন ব্যাসের আনুমানিক ৪০০ মিটার পাইপ অপসারণ ও জব্দ করা হয়। অভিযানের ফলে মাসিক প্রায় ১৫,৪১,৩৪০ টাকা মূল্যের গ্যাস চুরির রোধ সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস।

একই দিনে, নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর এলাকায় কলাবাড়ী ও দেওয়ানবাগ এলাকায় সিনিয়র সহকারী সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মিল্টন রায়ের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে একটি চুন ফ্যাক্টরি এবং আনুমানিক ৩০০টি আবাসিক বার্নারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় ২০০ ফুট পানির হোস পাইপ, ৮০ ফুট গ্যাস লাইন পাইপ, ৪টি বার্নার এবং ৩টি বেলচা অপসারণ ও জব্দ করা হয়।
ফ্যাক্টরির মালিককে অভিযানের সময় পাওয়া না গেলেও, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মৌখিক নির্দেশে তার ও জমির মালিকের বিরুদ্ধে FIR-এর উদ্দেশ্যে অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। অবৈধ চুন কারখার গ্যাস সংযোগ কেটে স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় চুন ভিজিয়ে নষ্ট করা হয়। পাশাপাশি গ্যাস সংযোগের উৎসমুখে স্থায়ীভাবে কিলিং করা হয়েছে।
তৃতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গ্রীন সিটি রোড ও বালুর মাঠ এলাকায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ৭টি বহুতল ভবনের ১৩৫টি চুলা, ১৭৫টি আধাপাকা বাড়ির ২৬৫টি ডাবল চুলা, ৭টি অবৈধ গ্যাস সরবরাহের উৎসমুখ এবং ১৬টি আবাসিক রাইজার স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে ৩৫টি বাড়ির অবৈধ গ্যাস সংযোগ কেটে ফেলা হয়।
এ সময় ৯১টি ডাবল চুলা, ৩টি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বার্নার অপসারণ/জব্দ করা হয় এবং ৯টি মামলায় মোট ৪,৫০,০০০ (চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
তিতাস গ্যাসের মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপক মোঃ আল আমিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান চলমান থাকবে এবং ভবিষ্যতেও আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গ্যাস চুরি রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনি পদক্ষেপ একযোগে চলবে বলে জানানো হয়।