নোবিপ্রবি প্রতিনিধি- মোঃ হাছিবুর রহমান

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আর্ট সংগঠন চিত্রকৃৎ-এর ব্যবহৃত রং, তুলি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম বিনষ্টের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দায়ীদের শনাক্তকরণ, ন্যায্য বিচার দাবি এবং চিত্রকৃৎ-এর হারিয়ে যাওয়া রং ও অন্যান্য সামগ্রীর যথাযথ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে সংগঠনটি।

সম্প্রতী চিত্রকৃৎ-এর ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত পোস্টের পর থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। সংগঠনটির দাবি, গত কয়েক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিতি, আলপনা, গোলচত্বর, অডিটোরিয়ামসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়াল চিত্রকৃৎ-এর সদস্যদের রং-তুলির ছোঁয়ায় নতুন রূপ পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সংগঠনটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন আয়োজনে কাজ করে আসছে।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আয়োজন শেষে ব্যবহৃত রং ও অন্যান্য সামগ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের সিঁড়ির নিচে সংরক্ষণ করা ছিলো। পরে তারা জানতে পারেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাধ্যমে ওই সরঞ্জামগুলো ফেলে দেওয়া হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কারও নির্দেশনায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।এ ঘটনাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও দুঃখজনক উল্লেখ করে তারা বলেন, একটি ক্লাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ যদি এভাবে নষ্ট হয়ে যায়, তবে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নান্দনিক ও সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সংগঠন ‘নোবিপ্রবি অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব’। গতকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) সংগঠনটির সভাপতি রাজদীপ দাশ এবং সাধারণ সম্পাদক সায়রা সাদিয়ার স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে তারা এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং তদন্তে সাপেক্ষ্যে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং চিত্রকৃৎ-এর জনসংযোগ সম্পাদক মাহবুবা মিলি ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুক পোস্টে বলেন, “ক্যাম্পাসে ইদানীং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ওপর যে পরিমাণ অবহেলা, অপমান ও অন্যায় আচরণ চলছে, তা সত্যিই হতাশাজনক। কিছুদিন আগেই ফিল্ম সোসাইটির নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্ক ও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছিল। আর আজ আঘাত এসেছে চিত্রকৃৎ-এর অস্তিত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটিতে আমাদের রং ও তুলিতে।”

তিনি আরও বলেন, “চিত্রকৃৎ-এর একমাত্র সম্বল এই রং-তুলি; এগুলো দিয়েই আমরা স্বপ্ন আঁকি, ক্যাম্পাসকে রাঙাই, সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখি। অথচ সেই রং-তুলিগুলোই কেউ পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করেছে। এটি শুধু কিছু রং বা সরঞ্জাম নষ্ট করার ঘটনা নয়, এটি আমাদের সৃজনশীলতা, আমাদের অনুভূতি এবং সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর সরাসরি আঘাত।”

এ বিষয়ে চিত্রকৃৎ এর সভাপতি শান্তা দেবনাথ বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে আপনারা দেখেছেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিতি, আলপনা, গোলচত্বর, অডিটোরিয়াম কিংবা বিভিন্ন দেয়াল—সবখানেই চিত্রকৃৎ-এর সদস্যদের রং-তুলির ছোঁয়ায় নতুন প্রাণ পেয়েছে। প্রতিটি আয়োজনে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সুন্দর করে তোলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের পর আমাদের ব্যবহৃত রং ও অন্যান্য সামগ্রী অডিটোরিয়ামের সিঁড়ির নিচে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২২ জুলাই আমাদের একটি কর্মশালার জন্য রং আনতে গিয়ে সেখানে রং না পাওয়ায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জিজ্ঞেস করা হয়। পরবর্তীতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী জানায় সংরক্ষিত ক্লাবের সকল সামগ্রী  ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং সেটিও নাকি কারও নির্দেশনায়।

আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং ন্যায্য বিচার দাবি করছি। একই সঙ্গে চিত্রকৃৎ-এর হারিয়ে যাওয়া রং ও অন্যান্য সামগ্রীর যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে ক্লাবের সামগ্রী সংরক্ষণের জন্য একটি নির্দিষ্ট ও নিরাপদ স্থান নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এএফএম আরিফুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত স্থানে সরঞ্জাম রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কাউকে জানানো প্রয়োজন ছিলো তাদের । এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি, আগামীকাল সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসবো। তাদের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।