হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের মাগুরালি চাঁদপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অপর পক্ষের আগ্রাসী আচরণের কারণে এই অনভিপ্রেত সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নলতা ইউনিয়নের মাগুরালি চাঁদপুর গ্রামের একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়দের মতে, বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে সাইদুল পক্ষের বৈধ দাবি ও মালিকানা থাকলেও অপর পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে। এর জের ধরেই ০২/০৮/২৬ আজ (রবিবার) সকাল ১০টার দিকে অপর পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে এবং উভয় পক্ষের লোকজন আহত হন। ঘটনার পরপরই কালিগঞ্জ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে।
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন: সাইদুলের পক্ষ (জমির প্রকৃত মালিক দাবিদার):
তারা বর্তমানে দেবহাটা সখিপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হলেন—
এমডি সাইদুল ইসলাম (৫২), পিতা: মৃত আবুল বিশ্বাস
এমডি সাইফুল (২৫) সাইদুল রহিম (৪০), পিতা: রজব আলী বিশ্বাস এমডি রেজাউল বিশ্বাস (৫০), পিতা: মৃত জেহের আলী বিশ্বাস, অপর পক্ষ:
তারা বর্তমানে কালিগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতরা হলেন—
রাফিজা খাতুন (৩৫), স্বামী: মহাসিন আলী, সাং: মঘুরালি
খাদিজা খাতুন (৪০), স্বামী: নুর ইসলাম (বয়স ৫৫)
নুর নাহার (৩০), পিতা: আবুল কালাম (বয়স ৩৫)
সাব্বির (২৪), পিতা: এহসানুল, গোলাম ওরেশ (৬০)
মো: আজিজ (৬৫), পিতা: মৃত বিলাত, গ্রামবাসীর বক্তব্য ও ভিডিও প্রমাণ: স্থানীয় গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই সংঘর্ষের জন্য মূলত অপর পক্ষই দায়ী। তাদের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার কারণেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয়দের কাছে এই ঘটনার ভিডিও প্রমাণও রয়েছে বলে তারা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আহতরা চিকিৎসাধীন থাকায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি। তবে এলাকার সচেতন মহল ও স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।