মোঃ মহিবুল্লাহ মেহেদী সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা


গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচি চলাকালে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের প্রধান ফটক আগে থেকেই বন্ধ থাকায় সেখানেও নতুন করে তালা লাগানো হয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ও পক্ষপাত পরিহার করে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে বিতর্কিত ও ফ্যামিলি কার্ডবিরোধী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান তারা।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তবে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজীব কুমার বাগচীকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।

এ সময় কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। পরে বিক্ষুব্ধ কয়েকজন উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন।

এরপর বিক্ষোভকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, কার্যালয়ের প্রধান ফটক আগে থেকেই তালাবদ্ধ। ফলে ইউএনওর সঙ্গে দেখা করে তাদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ হয়নি। পরে বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন ওই ফটকেও নতুন করে তালা লাগিয়ে দেন।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ফটক আগে থেকেই কেন তালাবদ্ধ ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনা বা পক্ষপাত গ্রহণযোগ্য নয়। তারা নিয়োগ প্রক্রিয়া যাচাই করে যোগ্য ও মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।

তাদের আরও অভিযোগ, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং ফ্যামিলি কার্ডের বিরোধিতাকারী ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।

কর্মসূচিতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ, সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ইখতিয়ার উদ্দিন ভূইয়া লিপন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার হোসেন পপেল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মতিয়ার রহমান এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওয়ালি উজ্জামান মন্ডল রিয়ালসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ নিয়ে যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে জনগণের স্বার্থে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজীব কুমার বাগচী এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলির বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিক্ষোভকারীরা জানান, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।