কুমিল্লার প্রতিনিধি
প্রায় ৬ লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা দিতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১০ জন চিকিৎসক। ফলে সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদেরও চরম চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটিতে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই, নষ্ট হয়ে পড়ে আছে এক্স-রে মেশিন। অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালকের সংকট রয়েছে। জেনারেটর, সুপেয় পানি এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরও রয়েছে ঘাটতি।
তুলনামূলকভাবে পাশের দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৬ জন এবং হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ জন চিকিৎসক কর্মরত থাকলেও ৬ লাখ মানুষের মুরাদনগরে মাত্র ১০ জন চিকিৎসক দিয়ে সেবা কার্যক্রম চলছে।
সম্প্রতি ডিউটি চিকিৎসকের কক্ষে ‘স্যার/ম্যাডাম’ সম্বোধন সংক্রান্ত একটি লিফলেটকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হলেও স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য। বরং সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাওয়া চিকিৎসকদের সহযোগিতা ও সম্মান নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, নষ্ট এক্স-রে ও অন্যান্য ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম সচল, জরুরি স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ উন্নত এবং হাসপাতালের বন্ধ থাকা ফার্মেসি পুনরায় চালু করা হোক।
মুরাদনগরবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করবে।