জুয়েল খন্দকার, নিজেস্ব প্রতিবেদক
ফেনী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ৩০০ কেজি গাঁজা, ৫ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা, বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করেছে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম। এসব অভিযানে মোট পাঁচজন পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব-৭, চট্টগ্রাম জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৫ জুন রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার ফতেহপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। এ সময় চৌদ্দগ্রাম থেকে চট্টগ্রামগামী ‘নিউ দাউদকান্দি এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে সিনথিয়া ইসলাম (২৭) ও রাবিয়া (৪৫) নামে দুই নারীকে আটক করা হয়।
তাদের সঙ্গে থাকা লাগেজ তল্লাশি করে স্কচটেপে মোড়ানো ১৩ কেজি গাঁজা, একটি বিদেশি মদের বোতল এবং ছয় বোতল বিয়ার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামতের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই নারী কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার গোমারবাড়ি পূর্বপাড়া এলাকায় মাদকের বড় একটি মজুদের তথ্য দেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ২৬ জুন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে মজিবুল হক (২৯) ও মো. সিয়াম (২৫) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের গরুর খামারে তল্লাশি চালিয়ে ২৭৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
এদিকে একই সময়ে র্যাব-৭-এর আরেকটি দল চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলার দ্বীপ সংলগ্ন সরকারহাট এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা দোস্ত মোহাম্মদকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ৫ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
র্যাব জানিয়েছে, তিনটি অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ২৮৯ কেজি গাঁজা, ৫ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা, এক বোতল বিদেশি মদ ও ছয় বোতল বিয়ার। উদ্ধারকৃত মাদকের সম্মিলিত আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং উদ্ধার হওয়া মাদক জব্দ করে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম।