মাহফুজ বাবু|কুমিল্লা : কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে আনা মোটরসাইকেল পরিবহনের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশনবিহীন ছয়টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি কুমিল্লার একটি বিশেষ দল জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভারত থেকে সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে মোটরসাইকেল বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহন করছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (২২ আগস্ট ২০২৬) দিবাগত রাতে ডিবি পুলিশের একটি দল বুড়িচং থানার ময়নামতি এলাকার কাটা জঙ্গল সাকিনে বিদ্যুৎ অফিসের সামনে সিলেট-কুমিল্লা মহাসড়কে কৌশলগত অবস্থান নেয়।

রাত আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটের দিকে ছয়টি মোটরসাইকেলে করে নয়জন ব্যক্তি সেখানে পৌঁছালে পুলিশ তাদের থামার সংকেত দেয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ডিবির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে নয়জনকেই আটক করতে সক্ষম হন।

পরে আটক ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলগুলোর বৈধ কাগজপত্র যাচাই করা হলে তারা কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন বা মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিবির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশ ও সহযোগিতার মাধ্যমে সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারত থেকে চোরাইপথে সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মোটরসাইকেলগুলো বাংলাদেশে আনার কথা জানিয়েছেন। পরে সেগুলো কুমিল্লা, ফেনী, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সিলেটের গোয়াইনঘাটের কচুয়ারপাড় গ্রামের কামিম আহম্মদ (২৮), সিলেট নগরীর শাহী ঈদগা এলাকার আব্দুল করিম (৩০), সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পুরাতন গদিগাঁওয়ের সাইদুল ইসলাম (২২), সিলেটের জালালাবাদ থানার নলকট গ্রামের পাবেল আহম্মদ (২৬), একই থানার নীলগাঁওয়ের হোসাইন (২৩), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চান্দপুরের রিপন চন্দ্র দাস (২৯), সিলেট কোতোয়ালি এলাকার রাজু আহম্মদ (২৮), সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার তাতিকোনা গ্রামের আবিদুল ইসলাম (২৮) এবং সিলেটের গোয়াইনঘাটের সালুটিঘর গ্রামের কাওছার হোসেন (২৬)।

অভিযানে জব্দ করা মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে রয়েছে—একটি নীল-সাদা রঙের Yamaha R15, একটি কালো রঙের Yamaha MT15, দুটি সাদা ও নীল রঙের Yamaha R15, একটি কালো রঙের Yamaha MT15 এবং একটি কালো রঙের Yamaha R15। সবগুলো মোটরসাইকেলেরই কোনো রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিবি পুলিশ বলছে, জব্দ করা মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত উৎস, মালিকানা, দেশে প্রবেশের পথ এবং চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

সীমান্তপথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে উচ্চমূল্যের মোটরসাইকেল অবৈধভাবে দেশে এনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।