মারুফ হাসান সৌরভ 

রঙবেরঙের অসংখ্য ফুলে নিজেকে সাজিয়ে নিয়েছিলো পরগাছাটা।

তার ডালে ডালে ফুটেছিলো বিস্ময়,

পথচলতি মানুষ থমকে দাঁড়িয়েছিলো—

কেউ নিয়েছে সুগন্ধ, কেউ মুগ্ধ চোখে ভরিয়েছে মন।

সে কারও কাছ থেকে কিছু চায়নি,

নীরবে শুধু বিলিয়ে গেছে তার সঞ্চিত সৌন্দর্য।

প্রশংসার শব্দ ভেসে এসেছে বাতাসে,

হাসির ঝলক লেগেছে তার ফুলের পাপড়িতে।

তবুও কোথাও যেন ছিলো এক অদৃশ্য দূরত্ব—

ভালোবাসার গভীর ডাক তাকে ছুঁয়ে যায়নি কখনো।

মানুষ তার রঙ দেখেছে, তার দান গ্রহণ করেছে,

কিন্তু শেকড়ের পরিচয় দিতে গিয়ে

কেউ তাকে আপন বৃক্ষের মর্যাদা দেয়নি।

সে দাঁড়িয়ে থেকেছে অন্যের কাঁধে ভর করে,

নিজস্ব মাটি না পেয়ে তবু স্বপ্ন দেখেছে আকাশের।

নিঃশব্দে ভেবেছে—

সৌন্দর্য কি যথেষ্ট নয় আপন হওয়ার জন্য?

নাকি পরিচয়ের এক অদৃশ্য দেয়াল

সব ভালোবাসাকে দূরে সরিয়ে রাখে?

তবুও পরগাছা থামেনি—

ফুল ফোটানোর আনন্দে সে আবারও রঙ ছড়িয়েছে,

কারণ তার স্বভাবই দেওয়া,

স্বীকৃতির অপেক্ষায় শুকিয়ে যাওয়া নয়।

হয়তো কোনো একদিন

কেউ তার ফুলের আড়ালে লুকানো সৌন্দর্য  দেখবে,

ডেকে বলবে—

“তুই শুধু পরগাছা নস, তুইও এক বৃক্ষ,

ভালোবাসার মাটিতেই তোর সত্যিকার শেকড়।”