মোঃ মহিবুল্লাহ মেহেদী, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতায় পরিচালিত শিশু টিকাদান কর্মসূচির ভ্যাকসিন নির্ধারিত কোল্ড চেইনের বাইরে একটি পরিত্যক্ত ঘরে সংরক্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের উত্তর পাশে একটি পরিত্যক্ত ঘরের ভেতরে সরকারি টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যবহৃত ভ্যাকসিন ও বিভিন্ন সামগ্রী রাখা রয়েছে। এছাড়া ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সুই এবং ভ্যাকসিনের খালি ভায়ালও সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, টিকাদান শেষে অব্যবহৃত ভ্যাকসিন প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেরত না নিয়ে পোর্টার ফেরদৌস নিজের মালিকানাধীন একটি সমিলের পরিত্যক্ত ঘরে রেখে দেন। পরদিন সেখান থেকেই বিভিন্ন এলাকায় টিকাদানের জন্য ভ্যাকসিন নিয়ে যাওয়া হয়।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই একই পদ্ধতিতে ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, সরকারি টিকা নির্ধারিত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না হলে এর কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও সুই উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখায় শিশু ও সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহৃত সুই বা সিরিঞ্জে যদি কোনো সংক্রমিত ব্যক্তির রক্তের উপস্থিতি থাকে, তাহলে অসাবধানতাবশত অন্য কারও শরীরে তা প্রবেশ করলে হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি কিংবা এইচআইভির মতো রক্তবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
এদিকে আরও অভিযোগ রয়েছে, টিকাদান কর্মসূচির তদারকির দায়িত্বে থাকা এমটিইপিআই শফিউল ইসলামের ভগ্নিপতি হওয়ায় পোর্টার ফেরদৌস বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অন্য একজন পোর্টারের পরিবর্তে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তার কার্যক্রমে যথাযথ তদারকি করা হয়নি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এমটিইপিআই শফিউল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বাসক বলেন, “হাসপাতালের বাইরে কোথাও ভ্যাকসিন বা পোলিও টিকা সংরক্ষণ করা গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”