কুমিল্লা প্রতিনিধি:
মাদকের ভয়াবহতা ও এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে কুমিল্লায় মাদকবিরোধী সমাবেশ ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই দিনে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ জনকে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ৬ নম্বর জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বারপাড়া-কৃষ্ণপুর এলাকায় ময়নামতি মেডিকেল কলেজের সামনে এ মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সচেতন এলাকাবাসী অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা, ব্যক্তি ও পরিবারজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব এবং সমাজে মাদক অপরাধের বিস্তার নিয়ে আলোচনা করেন। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরা হয়।
সমাবেশ শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একই স্থানে একটি মাদকবিরোধী র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।
একই দিনে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে এ সময় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতের মাধ্যমে দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনজনকে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, তিনজনকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড, তিনজনকে ১০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং ছয়জনকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতের এ ধরনের দ্রুত বিচার কার্যক্রমকে মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহলের অনেকে। তাদের মতে, অপরাধের পর দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে অপরাধপ্রবণতা কমানোর পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধও আরও জোরদার হবে।
কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।