নিউজ ডেস্ক
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পবিত্র মাওলিদুন্নবী (দ.) সেলিব্রেশন-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মীয় সম্মেলনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)-এর দাওয়াহ্ পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বক্তারা বলেন, প্রজ্ঞা, কোমলতা, ভালোবাসা, সুন্দর উপদেশ ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে মানুষের কাছে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরাই ছিল মহানবী (দ.)-এর দাওয়াহ্ পদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় ফ্লোরিডার পেমব্রোক পাইনস শহরের ৭০৫০ পাইনস বুলেভার্ডে অবস্থিত দারুল উলুম ইনস্টিটিউট ও ইসলামী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন ও পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সুফিজের প্রেসিডেন্ট শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মহানবী (দ.) মানুষের কাছে ইসলামের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন হিকমত, সুন্দর উপদেশ ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, ক্ষমাশীলতা ও কল্যাণকামিতার মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে ইসলামের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।
শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, মহানবী (দ.)-এর জীবন ও চরিত্র ছিল ইসলামের অন্যতম বাস্তব পরিচয়। তিনি শুধু বক্তব্যের মাধ্যমে মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বান করেননি; বরং সততা, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা, দয়া, ক্ষমাশীলতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে ইসলামের শিক্ষা বাস্তবে তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভাজন, বিদ্বেষ ও ভুল বোঝাবুঝি বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরতে হলে মহানবী (দ.)-এর প্রজ্ঞাভিত্তিক, মানবিক ও কোমল দাওয়াহ্ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
‘মানুষকে দূরে ঠেলে দেওয়া নয়, বরং ভালোবাসা ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ের কাছে পৌঁছানোই নবীজি (দ.)-এর দাওয়াহ্ পদ্ধতির অন্যতম শিক্ষা’—বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একজন মুসলমানের চরিত্র ও আচরণে ইসলামের শিক্ষা প্রতিফলিত হলে সেটিই অনেক সময় সবচেয়ে কার্যকর দাওয়াহ্ হয়ে ওঠে। তাই নবীপ্রেমকে শুধু আবেগ ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা মানবিক দায়িত্ব, ন্যায়, সত্য, ক্ষমা ও মানুষের সেবায় রূপ দিতে হবে।
মহানবী (দ.)-এর জীবনাদর্শ শুধু মুসলিম সমাজের জন্য নয়, বৃহত্তর মানবসমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, ন্যায়বিচার, প্রতিবেশীর অধিকার, দুর্বল মানুষের সুরক্ষা এবং সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠা তাঁর জীবনাদর্শের গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সম্মেলনে মুখ্য আলোচক ছিলেন আফগানিস্তানের বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক নেতা, নকশবন্দী-মুজাদ্দেদী তরিকার শায়খ এবং লিগ অব এডুকেশন অ্যান্ড আফগান ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান পীর মাওলানা আবু বকর মুজাদ্দেদী।
বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক শায়খ আজমাইন আসরার মাইজভাণ্ডারী, ফ্লোরিডার হোমস্টেডের মসজিদুল মুমিনীনের খতিব আল্লামা শেখ আবদুল হাকিম আযাদী এবং মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন ফারুক কায়সার।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খলিফা এ গাউসুল আজম শাহীন মাহমুদ, ফ্লোরিডা মাহফিলের সভাপতি আলি নূর মঞ্জু, নুরুল হাসান, রাসেল হাকিমসহ বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা মহানবী (দ.)-এর জীবন, চরিত্র ও দাওয়াহ্ পদ্ধতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, ধর্মীয় আদর্শের প্রকৃত প্রভাব তখনই সমাজে দৃশ্যমান হয়, যখন তা ব্যক্তিগত চরিত্র, পারিবারিক আচরণ এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।
অনুষ্ঠানে নাতে রাসুল ও ধর্মীয় স্লোগানের মাধ্যমে মহানবী (দ.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ পরিবার-পরিজনসহ এতে অংশ নেন।
আলোচনা ও ধর্মীয় আয়োজন শেষে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। পরে প্রধান অতিথি শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন।