গোলাম কিবরিয়া, বিশেষ প্রতিনিধি, বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বারেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘মাদককে না বলি’ স্লোগানকে সামনে রেখে যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যে এক বর্ণাঢ্য ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ‘প্রবাসী পরাণ’ একাদশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

ফুটবল টুর্নামেন্টকে ঘিরে বারেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করতে মাঠে ভিড় করেন বিপুলসংখ্যক স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, তরুণ-যুবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কামাল হোসেন চেয়ারম্যান। বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব কাশেম সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আবুল হোসেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ক্রীড়ানুরাগী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ট্রফি ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অতিথিরা বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের ইতিবাচক সামাজিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না; এর নেতিবাচক প্রভাব পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপরও পড়ে। তাই তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

তাঁরা আরও বলেন, নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি হলে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে ওঠে। ফলে মাদকসহ নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘মাদককে না বলি’—এই বার্তাকে শুধু একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠানের স্লোগান হিসেবে নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা তৈরির একটি আন্দোলন হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়াই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এলাকার তরুণদের নিয়ে এ ধরনের ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ড আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।

উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এ ফুটবল টুর্নামেন্ট স্থানীয় তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আয়োজকদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনে খেলাধুলাকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।