মোঃ মহিবুল্লাহ মেহেদী, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগারের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শোধনাগারটি চালু না হওয়ায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
পানি শোধনাগার দ্রুত চালু করে সুপেয় পানি সরবরাহ এবং পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নকাজে ধীরগতি ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পৌর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট দূর করতে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর পার হলেও সেটি চালু না হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখনো নিরাপদ ও সুপেয় পানি পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এভাবে পড়ে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তারা বলেন, দ্রুত শোধনাগারটি চালু করে পৌরবাসীর ঘরে ঘরে সুপেয় পানি পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় চলমান রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণকাজে ধীরগতি এবং নিম্নমানের কাজের যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, পৌরবাসী এনামুল হক, সাইফুল ইসলাম, আবু সাঈদ মোহাম্মদ মুজাহিদ, শাহিন আলম, পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুন্নবী প্রামাণিক সাজুসহ স্থানীয়রা।
বক্তারা আরও বলেন, নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে পানি শোধনাগার চালু না হওয়ায় পৌরবাসীর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শোধনাগার চালু করে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে পৌরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা।