ফায়াজ ও ধোনকালোর জন্য টিকটক কমিউনিটির ১২ লাখ রুফিয়ার সহায়তা
মোহাম্মদ মাহমুদুল মালদ্বীপ প্রতিনিধি
মালদ্বীপের টিকটক কমিউনিটির মানবিক উদ্যোগে অটিজম ও এডিএইচডিতে আক্রান্ত ১৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ ফায়াহ হাসান ‘ধোনকালো’ ও তাঁর বাবা হাসান ফায়াজের জন্য সংগৃহীত হয়েছে ১২ লাখেরও বেশি মালদ্বীপ রুফিয়া।
বি. হিথাধু দ্বীপে জরাজীর্ণ একটি পুরোনো বাড়িতে দিদিমার সঙ্গে বসবাস করেন ফায়াজ ও তাঁর ছেলে ধোনকালো। ছেলের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হওয়ায় ফায়াজ চাকরি ছেড়ে পূর্ণকালীন পরিচর্যাকারী হিসেবে তাঁর পাশে রয়েছেন।
ধোনকালো ‘মা’ ও ‘বাবা’র মতো কিছু সাধারণ শব্দ বলতে পারলেও ভাষায় স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন না। তাঁর জন্য আরও নিরাপদ ও প্রশস্ত পরিবেশ তৈরি করতে ফায়াজ একটি নতুন বাড়ির নির্মাণ শুরু করেছেন। বাড়িটির ছাদ নির্মাণ শেষ হলেও মেঝে, টাইলসসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনও বাকি।
ফায়াজ টিকটকে বাবা-ছেলের দৈনন্দিন জীবন ও সংগ্রামের বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরেন। এসব ভিডিও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সহানুভূতি ও সমর্থন তৈরি করে।
সম্প্রতি মালদ্বীপের টিকটক কমিউনিটির কয়েকজন হোস্ট ধোনকালোর বাড়ির নির্মাণকাজ শেষ করতে একটি লাইভ তহবিল সংগ্রহের আয়োজন করেন। প্রথম ৩০ মিনিটেই এতে ১৪ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। ফায়াজের ব্যাংক অব মালদ্বীপ (BML) ও মালদ্বীপ ইসলামিক ব্যাংক (MIB) হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি অনুদান দেওয়া হয়।
রাত ১টার দিকে ফায়াজ জানান, সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ১২ লাখ মালদ্বীপ রুফিয়ার ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি কয়েকজন দাতা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন।
এ সহায়তায় আবেগাপ্লুত ফায়াজ বলেন, এত বড় সাড়া তিনি কখনো প্রত্যাশা করেননি। তাঁর ভাষায়, “এই অভিজ্ঞতা আমাকে দেখিয়েছে, প্রয়োজনে মালদ্বীপের মানুষ কতটা সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে প্রস্তুত। আমার এবং ধোনকালোর পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।”
মালদ্বীপের টিকটক কমিউনিটি এর আগেও বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহ করে অসহায় ব্যক্তি ও পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে।