ছোটবেলা থেকেই গল্প শুনে আসছি,নানা রকম গল্প।
মা, কানাবগী এবং দুলাল শুনাতেন;
মাঝে মাঝে রাগিণী টেনে গাইতেন-আমি খুব কাঁদতাম।
বড়বোন সাত ভাই চম্পা, রাণী বিলকিস আর দাদা-দাদী শুনাতেন রাক্ষস এবং ঝোলা-ঝুলির গল্প; মাঝে মাঝে গল্প শুনে কান্না বন্ধ করে হেসে উঠতাম।
বাবা তাঁর নীতি-আদর্শের গল্প,
পুত্রহারা ইয়াকুব নবীর ইউসুফের গল্প,
নবী ইবরাহিমকে নমরূদের আগুনে ফেলার গল্প, অলি-দরবেশের গল্প-বিশেষত শেখ সাদির জামার পকেটে খাবার পুরে রাখার গল্প।
এসবের ফাঁকে ফাঁকে বন্ধুদের কাছ থেকেও শুনতাম লাইলি-মজনু, শিরি-ফরহাদ, রোমিও-জুলিয়েট-নোংরামিও থাকত কিছু।
ক্লাসেও চলত সময়ে সময়ে টুকটাক।
স্যাররা বলতেন সক্রেটিস, এরিস্টটল, শেক্সপিয়ার, আলেকজান্ডারের কথা।
এসব গল্প শুনতে শুনতে পার করে দিলাম জীবনের
৫০ টি বছর।
এখনও শুনছি, আজও শুনলাম।
হয়তো মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তেও শুনব
নিতান্তই খুব কাছের মানুষটির কাছ থেকে
আমার শোনা জীবনের শেষ গল্প।
তারপরও গল্পের মতো জীবন হয়ে উঠতে পারলাম না;
এই পৃথিবী আসলে একটা বিশাল গল্পেরই কারখানা।
০২/১০/২৬
কুমিল্লা।