মোঃ মহিবুল্লাহ মেহেদী, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শেখ মামুনুর রশিদ নামে এক সাংবাদিককে মারধর, গলা চেপে ধরাসহ হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার কাছে থাকা ৪০ হাজার টাকা ও প্রায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। তিনি ‘আগামীর সময়’ পত্রিকার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
এর আগে শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ শিববাড়ী শহীদ মিনারসংলগ্ন চন্দনের চায়ের দোকানে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক শেখ মামুনুর রশিদ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বলরাম গ্রামের মো. আব্দুল মজিদ মিয়ার ছেলে।
এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিব মিয়া (৩০), মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে সরফরাজ মিয়া (৩৮), আসাদুল মহুরির ছেলে মনির মিয়া (৩০) ও মৃত খোকা মিয়ার ছেলে তুহিন মিয়ার (৩৮) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ধান ব্যবসার সূত্রে রাকিব মিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মামুনুর রশিদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি রাকিবের ভাই তুহিন মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ নাইমা জান্নাত নিখোঁজ হওয়ার পর মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে তাকে নিয়ে দোষারোপ ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ ওঠে। পরে ওই নারী রংপুরে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানা যায়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা মামুনুর রশিদকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে সম্মানহানির মামলা করার কথা জানিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। এতে অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, শনিবার মাগরিবের নামাজের পর মামুনুর রশিদ চন্দনের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় রাকিব, সরফরাজ, মনির, তুহিনসহ আরও দুই থেকে তিনজন সেখানে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে দোকান থেকে বের করে মারধর করেন। এতে তার মাথা, ঘাড়, গলা, বুক ও মেরুদণ্ডসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মারধরের একপর্যায়ে রাকিব মিয়া তার পকেট থেকে ধান ব্যবসার ৪০ হাজার টাকা নিয়ে নেন। সরফরাজ মিয়া তার ডান হাতের আঙুলে থাকা প্রায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের আংটি খুলে নেন। পরে সরফরাজ তাকে শহীদ মিনারের পাকা দেয়ালে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং রাকিব তার গলা চেপে ধরেন। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্তরা আবারও মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সবুজ মিয়া বলেন, “মামুন ভাইয়ের সঙ্গে একসঙ্গে চা খেয়ে আমি আমার দোকানে আসি। পরে দেখি রাকিব, সরফরাজ, মনির, তুহিনসহ কয়েকজন তাকে মারধর করছেন। আমি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে রাকিব আমাকে ঘুষি মারার চেষ্টা করেন এবং ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।”
চায়ের দোকানের মালিক চন্দন বলেন, “মামুন আমার দোকানে বসে ছিল। রাকিব, মনির, সরফরাজ, তুহিনসহ কয়েকজন এসে তাকে জোর করে বাইরে নিয়ে যায়। আমি বাধা দিলে আমাকেও মারার হুমকি দেয়। এরপর তারা মামুনকে মারধর করে।”
অভিযোগের বিষয়ে রাকিব মিয়া, সরফরাজ মিয়া, মনির মিয়া ও তুহিন মিয়ার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। পরে ব্যবহৃত নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, “এর আগে আসামিরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সামাজিকভাবে সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলায় আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় আমার টাকা ও স্বর্ণের আংটি নিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সুন্দরগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় এজাহার দিয়েছি।”
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, “সাংবাদিক মামুনুর রশিদকে মারধর, টাকা ও স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”