মোঃ কুতুব উদ্দিন,ঢাকা
ষাটের দশকের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোকাহত সহকর্মী ও ভক্তরা, স্মৃতিচারণায় উঠে এলো তাঁর ব্যক্তিত্ব ও অভিনয়জীবন

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় ও বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার লুবানা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তাঁর মৃত্যুতে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ষাটের দশকের পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রী

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের পরিচিত মুখগুলোর মধ্যে নাসিমা খান ছিলেন অন্যতম। ষাটের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের বিকাশের সময়ে তিনি অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের নজর কাড়েন। বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই অভিনয় করে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি।

১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। পরবর্তী সময়ে ‘যে নদী মরু পথে’ চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। এ ছাড়া ‘সূর্যস্নান’, ‘বেগানা’ ও ‘উজালা’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের কাছে তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে।

অসুস্থতার কাছে হার মানলেন বর্ষীয়ান শিল্পী

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাসিমা খান বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান নিশ্চিত করেছেন।

ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষায় ছিলেন অনন্য

নাসিমা খান শুধু একজন অভিনেত্রীই ছিলেন না, সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও শ্রদ্ধাভাজন একজন মানুষ। তাঁর শিক্ষা, রুচিবোধ, মার্জিত আচরণ ও আত্মমর্যাদাবোধ তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল বলে তাঁর সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিরা স্মরণ করছেন।

তাঁর সঙ্গে অভিনয় করার সৌভাগ্য হয়েছিল—এমন একজন সহশিল্পী আবেগঘন স্মৃতিচারণায় বলেন, নাসিমা খান ছিলেন অত্যন্ত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন শিল্পী। তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা জীবনের স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। প্রিয় এই অভিনেত্রীর প্রয়াণে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর আত্মার শান্তি ও জান্নাত কামনা করেছেন।

চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নাসিমা খান বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের দর্শকদের কাছে পরিচিতি অর্জন করেছিলেন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্রের ধরন বদলেছে, বদলেছে অভিনয়ের জগৎও। কিন্তু পুরোনো দিনের চলচ্চিত্রের সঙ্গে যাঁদের স্মৃতি জড়িয়ে আছে, তাঁদের কাছে নাসিমা খানের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে।

পরবর্তী সময়েও তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত পরবর্তী সময়ের কাজের মধ্যে ‘মাতৃত্ব’, ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ ও ‘মাটির পিঞ্জিরা’ উল্লেখযোগ্য।

তাঁর মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি প্রজন্মের স্মৃতিবিজড়িত অধ্যায়ের অবসান ঘটল। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও কর্মজীবনের স্মৃতি সহকর্মী, দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে বেঁচে থাকবে।

শোক ও শ্রদ্ধা

বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছেন তাঁর সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। মহান আল্লাহর কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং তাঁর পরিবার, স্বজন ও ভক্তদের এই শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন। আমিন।