মোঃ শাহজাহান বাশার
চট্টগ্রাম নগরের উত্তর হালিশহর চৌধুরী পাড়া বাজারে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ ও ফাতেহায়ে ইয়াজদাহুম উপলক্ষে ৪১তম আজিমুশশান মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, নবীপ্রেম ও আধ্যাত্মিক আবহে আয়োজিত এ মাহফিলে প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর আদর্শ, মানবকল্যাণ, নৈতিক মূল্যবোধ এবং অলি-আউলিয়াদের আধ্যাত্মিক দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

হালিশহর চৌধুরী পাড়া এলাকার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডবাসী এবং মইনীয়া যুব ফোরাম এসকান্দর ভান্ডার ইউনিট-২-এর যৌথ উদ্যোগে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মাহফিলে প্রধান অতিথি ও মেহমানে আ’লা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওলাদে রাসুল, মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহসূফী ড. সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভান্ডারী (মা.জি.আ.)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল মাইজভান্ডারী বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ ও ফাতেহায়ে ইয়াজদাহুম মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ, নৈতিকতা চর্চা এবং শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয়। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর মহান আদর্শ ও অলি-আউলিয়াদের সুফি দর্শন অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য জোরদার করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সমাজে সংঘাত, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় রোধে প্রিয়নবী ﷺ-এর সুন্নাহ ও উত্তম চরিত্র অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুবসমাজকে ভ্রান্ত আদর্শ ও অপসংস্কৃতির প্রভাব থেকে দূরে রাখতে নবীপ্রেম, নৈতিক শিক্ষা এবং আধ্যাত্মিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ-এর শিক্ষা মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় মহানবী ﷺ-এর আদর্শ এবং আহলে বাইতের শিক্ষা অনুসরণের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।

মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবক ডা. মুহাম্মদ ইকবাল।

বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইয়্যিদ সামছুল আলম আল সানজারী মাইজভান্ডারী (মা.জি.আ.) এবং হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক নকশবন্দী মোজাদ্দেদী (মা.জি.আ.)।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন তৈয়্যবিয়া মাইজভান্ডারীয়া শেরে বাংলা মডেল মাদ্রাসা, সাতকানিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মাওলানা মাহাবুবুল হক নুরে বাংলা কাদেরী।

এ ছাড়া বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল জাবের, হাফেজ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা ফরহাদ আমিন এবং মাওলানা শফিউল আলম বদরী। তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে বিশ্বনবী ﷺ-এর জীবনাদর্শ, ফাতেহায়ে ইয়াজদাহুমের তাৎপর্য, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং মানবজীবনে আধ্যাত্মিক চর্চার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

মাহফিলের শেষপর্বে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ এবং বিশ্বমানবতার মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহসূফী ড. সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভান্ডারী (মা.জি.আ.)।

মোনাজাত শেষে উপস্থিত মুসল্লি ও জনসাধারণের মধ্যে তবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে ৪১তম আজিমুশশান মিলাদ মাহফিলের সমাপ্তি ঘটে।