তারেক রহমানের দূরদর্শিতা ও আমার রাজনৈতিক জীবনের কঠিন শিক্ষা — ইশরাক

 

সদ্য পদত্যাগ করা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শিতা এবং তাঁর দেওয়া একটি পরামর্শের কথা তুলে ধরেছেন।

 

ইশরাক হোসেন লেখেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের অন্যতম সেরা পরামর্শ দিয়েছিলেন, যা তিনি একবাক্যে মেনে নিয়েছিলেন। প্রথমে বিষয়টি শাস্তি মনে হলেও পরে তিনি বুঝতে পারেন, সেই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনা ছিল।

 

স্ট্যাটাসে ইশরাক দাবি করেন, একটি গণমাধ্যম ও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাঁকে ঘিরে ক্ষতিকর পরিকল্পনা সাজিয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একের পর এক নেতিবাচক প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে তাঁর চরিত্র হনন, জনসমালোচনার মুখে ফেলা এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে তাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল।

 

তিনি আরও লেখেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত, যাতে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে একঘরে করে ফেলা হয় এবং তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে অতীতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিজ্ঞতার কথাও তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

তারেক রহমানের প্রতি নিজের আস্থার কথা তুলে ধরে ইশরাক লেখেন, আল্লাহর রহমতে তারেক রহমান তাঁকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করেন এবং তাঁর জন্য কোনটি ভালো, তা নিয়ে চিন্তা করেন। জীবনে বারবার তিনি এর প্রমাণ পেয়েছেন বলেও দাবি করেন।

 

নিজের শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে ইশরাক বলেন, তিনি একটি কঠিন কাজ শুরু করতে যাচ্ছিলেন। সেই উদ্যোগ থেকে উদ্ভূত হতে পারে—এমন একটি গুরুতর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা থেকে তিনি নিজেকে সরিয়ে রাখতে পেরেছেন বলে মনে করেন।

 

তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন আগে তারেক রহমানের বলা কথার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি মিলিয়ে তিনি বিস্মিত হচ্ছেন। তাঁর মতে, বিষয়টি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার জন্য নয়; বরং নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি তুলে ধরার জন্যই তিনি কথাগুলো বলেছেন।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে দলের ভেতরে সম্ভাব্য আঁতাতের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান ইশরাক। তাঁর বক্তব্য, নিজ দলের কেউ অন্য কোনো মহলের সঙ্গে আঁতাত করে থাকলে উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, অপপ্রচার ও গোপন সমঝোতার রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

 

সূত্র: ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাস।