বিশেষ প্রতিবেদকঃ


অনৈতিকভাবে অর্থ নিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিকে ফাসিয়ে শ্লীলতাহানি মামলার আসামি করার দায়ে, মুন্সিগঞ্জ জেলা পিবিআই এর (Police Bureau of Investigation) এস আই রামকে শাস্তিমূলক বদলি করা হলো।

মুন্সিগঞ্জ, লৌহজং উপজেলা বিএনপির মহিলা দলের ১ নং সহ সাধারণ সম্পাদক, প্রতারক চক্র হানিট্রাপের সদস্য উজ্জালার মেয়ে রিয়ার, দায়ের করা মিথ্যা মামলায় আর্থিক অনৈতিক সুবিধা নিয়ে জাহাঙ্গীর খান নামক এক প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাকে ফাসিয়ে দেওয়ার অপরাধে এসআই রামকে এই শাস্তি মূলক বদলি করা হয়।

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়। বাদী রিয়া, উপজেলার বেজগাও ইউনিয়ন ৪ নং ওয়ার্ডে প্রবাসী জাহাঙ্গীর খানের বাসায় দীর্ঘদিন যাবত ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিল। প্রথম কিছু মাসের ভাড়া দিলেও, মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের এমপি এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদের আস্থাভাজন হওয়ার দাপট দেখিয়ে ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ভাড়া চাইতে গেলে দেই দিচ্ছি করে তালবাহানা শুরু করে। আটকে দেয় ছয় মাসের ভাড়া। যখন তাকে বাসা ছাড়া নোটিশ দেওয়া হয়, তখনই শুরু হয় রিয়া এবং তার মা উজ্জ্বলার হুমকি-ধমকি। প্রভাব দেখাতে থাকে সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদের। উপায়ান্তর না পেয়ে বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীর খানের সহধর্মিনী বকেয়া বাসা ভাড়া আদায়ের জন্য , আদালতের শরণাপন্ন হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয় লৌহজংয়ের চিহ্নিত হানিট্রাপের সদস্য ভাড়াটিয়া রিয়া,তার এক সপ্তাহ পরে মুন্সিগঞ্জ আদালতে পুরনো তারিখ দেখিয়ে, বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীরকে আসামি করে, তার ১১ বছরের মেয়েকে শ্লীলতাহানি করেছে দেখিয়ে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। তদন্তভার পরে এসআই রামের উপর। এসআই রাম বিবাদী পক্ষের কাছে এক লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করলে, বিবাদী পক্ষ তা দিতে অপারাগতা প্রকাশ করে। টাকা না দেওয়াতে এসআই রাম বাদী পক্ষ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীরকে আসামি করে প্রতিবেদন দাখিল করে। যার ফলশ্রুতিতে আদালত জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। একজন নিরপরাধ মানুষ হয়ে যায় ফেরারি আসামি।

জাহাঙ্গীর খানের সহধর্মিনী এসাই রামের বিরুদ্ধে পিবিআই হেডকোয়ার্টারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে, তারা অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে, এসআই রামের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা পিবিআই প্রধান, এডিশনাল এসপি আসমা আরা জাহান বলেন। জাহাঙ্গীর খানের সাথে যে ঘটনা ঘটেছে অবশ্যই আমরা মর্মাহত। অবশ্যই ভবিষ্যতে কোন নিরপরাধ ব্যক্তি যেন প্রতিহিংসার শিকার না হয়, এ ব্যাপারে আমরা অধিক সতর্ক থাকবো। এসআই রামের ব্যাপারে তিনি বলেন

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে ব্যাপারে আমার কিছু আর বলার নাই।

মামলার বিষয়ে বাদী রিয়া এবং তার মা উজ্জ্বলার সাথে কথা বললে তারা বলেন ৫ লক্ষ টাকা দিলে পরে আমরা এ মামলা তুলে নেব। তা না হলে মামলা চলবে।

মামলার বিষয়ে জাহাঙ্গীর খানের সহধর্মিনীর সাথে কথা বললে তিনি জানান। বিষয়টি নিয়ে লৌহজং থানায় বসা হয়েছে, অনেক চেষ্টা করেও ওসি বিষয়টি মীমাংসা করতে পারেননি। রিয়ার একটাই বক্তব্য ৫ লক্ষ টাকা না দিলে মামলা তুলবো না। তিনি আরো জানান, বিষয়টি আমাদের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আমাকে লৌহজংয়ের বিএনপি নেতা এম শুভ আহমেদ এর সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। আমি সরাসরি তার সাথে কয়েকবার এ বিষয় নিয়ে দেখা করি। তিনি আমাকে আশ্বাস দিলেও এর কোন সমাধান করেননি। এখন আল্লাহর উপরে ভরসা করে আছি, তিনি উত্তম পরিকল্পনাকারী। আমরা আইনের প্রতি অবশ্যই শ্রদ্ধাশীল। আমার স্বামী দেশে আসলে অবশ্যই সে আদালতে শরণাপন্ন হবেন।

এ বিষয়ে এম শুভ আহমেদের সাথে কথা বললে তিনি জানান। ওরা মা মেয়ে অনেক খারাপ। এটা ওদের ব্যবসা। কিছুদিন আগে উজ্জ্বলা অন্য এক প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল। আমি শুনেছি ওদের পরিবার মাদক ব্যবসার সাথেও জড়িত। বিভিন্ন রকম নিষিদ্ধ ব্যবসা ওরা করে। ওদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন শেষ নাই। আমি এই নোংরা মানুষদের কিছু বলতে পারব না।