জাহিদ হাসান,বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

একসময় ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর থাকত রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল ও বিপণিবিতান। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলত কেনাকাটার ব্যস্ততা। দোকানিদের মুখে থাকত হাসি, ব্যবসায়ীদের চোখে থাকত নতুন স্বপ্ন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র যেন অনেকটাই বদলে গেছে। অধিকাংশ শপিংমলে এখন ক্রেতার উপস্থিতি কম, অনেক দোকানেই নেই আগের মতো বেচাকেনা। ব্যবসার মন্দায় হতাশা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিলসহ নিয়মিত খরচ মেটাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অথচ সেই তুলনায় বিক্রি নেই বললেই চলে। অনেক ব্যবসায়ী দিনের পর দিন দোকান খুলে বসে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার দেখা পাচ্ছেন না। ফলে পুঁজি হারানোর পাশাপাশি ঋণের বোঝাও বাড়ছে কারও কারও।

বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে। দীর্ঘদিন ধরে লোকসান গুনতে গুনতে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন। কেউ কেউ দোকান বন্ধ রেখেছেন, আবার কেউ টিকে থাকার আশায় প্রতিদিন নতুন করে লড়াই করছেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, ব্যবসায়িক পরিবেশের অবনতি এবং নানা অর্থনৈতিক চাপের কারণে বেচাকেনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে অনেক ব্যবসায়ীকে স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করতে হতে পারে।

তাদের দাবি, শপিংমল ও বিপণিবিতানের ব্যবসায়িক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের টিকে থাকতে দোকানভাড়া ও অন্যান্য খরচের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়টিও বিবেচনা করা জরুরি।

একসময় যে শপিংমলগুলো ছিল কর্মচাঞ্চল্য আর বেচাকেনার কেন্দ্র, সেখানে এখন অনেক ব্যবসায়ীর চোখে অনিশ্চয়তার ছাপ। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে ভেতরে লোকসান আর হতাশার ভারে নীরবে কাঁদছেন তারা।