জহুরুল ইসলাম জুয়েল, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার কলেজগুলোতে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার তিনটি কলেজ ও পার্শ্ববর্তী আদর্শ কলেজ খাবাসপুরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চারটি কলেজের মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার ৩৯ দশমিক ১১ শতাংশ। বাকি তিনটি কলেজের পাসের হার ৩৩ শতাংশের নিচে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলের পর শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, সরকারি বিচারপতি নুরুল ইসলাম কলেজ থেকে ২০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭৯ জন। কলেজটির পাসের হার ৩৯ দশমিক ১১ শতাংশ। এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন দুজন শিক্ষার্থী।

খাজা রহমত আলী ডিগ্রি কলেজ থেকে ৫১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৬৫ জন। কলেজটির পাসের হার ৩২ দশমিক ১৬ শতাংশ। অন্যদিকে, এম এ রউফ কৌড়ী ডিগ্রি কলেজ থেকে ১০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২০ জন। কলেজটির পাসের হার প্রকাশিত তথ্যে ১৯ দশমিক ২৬ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী আদর্শ কলেজ খাবাসপুর থেকে ৩৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৭০ জন। কলেজটির পাসের হার ২০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এ দুটি কলেজের কোনোটিতেই জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থী নেই বলে প্রকাশিত ফলাফলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চারটি কলেজের মধ্যে সরকারি বিচারপতি নুরুল ইসলাম কলেজের পাসের হার সর্বোচ্চ হলেও তা ৪০ শতাংশের নিচে। অন্য তিনটি কলেজের ফলাফলও প্রত্যাশার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মান, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান জোরদার, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা এবং নিয়মিত পরীক্ষা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে দুর্বলতা চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তবে ফলাফল খারাপ হওয়ার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর অধ্যক্ষ ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। তাঁদের মতামত এবং শিক্ষা কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব।

কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি যারা প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি, তাদের হতাশ না হয়ে পরবর্তী শিক্ষাজীবনে আরও ভালো করার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।