নিজস্ব প্রতিবেদক

নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজ আমি আপনাদের হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই,যে আমল ও দোয়ায় ধনী হওয়া যায়, সেই সম্পর্কে নিম্নে সংকিপ্ত আকারে আলোচনা তুলে ধরছি, “ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ” ধনী বা সম্পদশালী হওয়া মুমিনের জন্য একটু কঠিন। কারণ তাকে হালাল পথে উপার্জন করতে হয়। এজন্য তাকে প্রথমে কাজের দক্ষতা অর্জন করতে হয়। পাশাপাশি তার জন্য ১০টি আমলের শিক্ষা রয়েছে কোরআন-হাদিসে। আমলগুলো করলে তার রিজিকে প্রশস্ততা আসবে, সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো

১. আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা

আল্লাহর শুকরিয়া মুমিনের সফলতার সোপান। শুকরিয়া আদায়কারীদেরকে শুধু নেয়ামতের ওপরই রাখা হয়। সুতরাং যা আছে তাতেই শোকরগুজার হতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের (নেয়ামত) বাড়িয়ে দেবো, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয়ই আমার আজাব বড় কঠিন।’ (সুরা ইবরাহিম: ০৭)

২. ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা

ইস্তেগফারে হালাল উপার্জন বেড়ে যায়। নুহ (আ.)-এর জবাবে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আমি বললাম, তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তিনি তো ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তিনি তোমাদের সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে এবং তোমাদের জন্য স্থাপন করবেন উদ্যান ও প্রবাহিত করবেন নদীনালা।’ (সুরা নুহ: ১০-১২) রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিগফার করে আল্লাহ তাআলা তার সব সংকট থেকে উত্তরণের ব্যবস্থা করে দেন, তার সব পেরেশানি দূর করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৫১৮)

৩. তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসা

শুধুমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা সম্পদ বৃদ্ধির অন্যতম উপায়। হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথ ভরসা করো তাহলে তোমাদের জীবিকা দেওয়া হবে সেভাবে যেভাবে পাখি রিজিকপ্রাপ্ত হয়। পাখি সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বের হয় এবং পেট পূরণ করে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরে। (তিরমিজি: ২৩৪৪)

৪. তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অবলম্বন

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার পথ করে দেবেন। আর তাকে তার ধারণাতীত উৎস থেকে রিজিক দান করবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর নির্ভর করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ তার ইচ্ছা পূরণ করবেনই। আল্লাহ সব কিছুর জন্য স্থির করেছেন নির্দিষ্ট মাত্রা।’ (সুরা তালাক: ২-৩)

৫. আল্লাহর ইবাদতে গাফিলতি না করা

ইবাদত রিজিকে বরকত আনে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যদি তারা তাওরাত ও ইঞ্জিলের এবং যে কিতাব (কোরআন) তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তার যথারীতি আমলকারী হতো, তাহলে তারা উপর (আকাশ) থেকে এবং পায়ের নিচ (জমিন) থেকে প্রাচুর্যের সঙ্গে ভক্ষণ করত। তাদের একদল তো সরল পথের পথিক; আর তাদের বেশির ভাগ এমন যে তাদের কার্যকলাপ অতি জঘন্য।’ (সুরা মায়েদা: ৬৬)

৬. তাওবা করা

তাওবার অর্থ হচ্ছে পাপকে ঘৃণিত কর্ম জ্ঞান করে বর্জন করা। নিজ ভুলের জন্য লজ্জিত হওয়া এবং ভবিষ্যতে তা না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা। হুদ (আ.)-এর ভাষায় কোরআনে এসেছে, ‘হে আমার জাতি! তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তাঁর দিকে নিবিষ্ট হও। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের শক্তি বর্ধিত করে দেবেন। আর তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না।’ (সুরা হুদ: ৫২)

৭. কর্জে হাসানা

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী এবং যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে তাদের দেওয়া হবে বহুগুণ বেশি এবং তাদের জন্য আছে মহা পুরস্কার।’ (সুরা হাদিদ: ১৮)

৮. আল্লাহর রাস্তায় ব্যয়

আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করলে আল্লাহ সম্পদ বাড়িয়ে দেন। এই মর্মে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলে দাও, আমার রব তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তার রিজিক বাড়িয়ে দেন এবং যাকে ইচ্ছা সীমিত পরিমাণে দেন। তোমরা যা ব্যয় করবে তিনি তার প্রতিদান দেবেন। তিনি শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা।’ (সুরা সাবা: ৩৯)

৯. বিয়ে করা

বিয়ে সম্পদ বৃদ্ধিতে সহায়ক। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিপত্নীক পুরুষ বা বিধবা স্ত্রী—তাদের বিবাহ সম্পাদন করো এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও। তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন; আল্লাহ তো প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা নুর: ৩২)

১০. সম্পদ বৃদ্ধির জন্য দোয়া

ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.) সম্পদ বৃদ্ধির জন্য এই মর্মে দোয়া করেন- رَبَّنَاۤ اَنۡزِلۡ عَلَیۡنَا مَآئِدَۃً مِّنَ السَّمَآءِ تَكُوۡنُ لَنَا عِیۡدًا لِّاَوَّلِنَا وَ اٰخِرِنَا وَ اٰیَۃً مِّنۡكَ ۚ وَ ارۡزُقۡنَا وَ اَنۡتَ خَیۡرُ الرّٰزِقِیۡنَ ‘হে আল্লাহ! হে আমাদের রব! আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্য অবতীর্ণ করুন, যেন ওটা আমাদের জন্য অর্থাৎ আমাদের মধ্যে যারা প্রথমে এবং যারা পরে, সবার একটা আনন্দের বিষয় হয় এবং আপনার পক্ষ থেকে এক নিদর্শন হয়ে থাকে। আর আমাদের খাদ্য প্রদান করুন। আপনি তো সর্বোত্তম খাদ্য প্রদানকারী।’ (সুরা মায়েদা: ১১৪)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল পথে উপার্জনের তাওফিক দান করুন। রিজিকে প্রশস্ততা দান করুন, আমীন।

লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: তৈয়ব কামাল হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা সিলেট।