জহুরুল ইসলাম জুয়েল, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:

একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের নটাখোলা এলাকার মানুষ। খালের ওপর নির্মিত পুরোনো কাঠের সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পাটাতন ও রেলিংয়ের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন অন্তত ১৫ গ্রামের বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ী মেরামত নয়, এখানে দ্রুত একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আলমাস খালের ওপর কাঠের সেতুটি নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে সেতুটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। বিশেষ করে প্রবেশমুখ ও পাটাতনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এরপরও বিকল্প পথ না থাকায় প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করছেন।

নটাখোলা থেকে লেছড়াগঞ্জ, সুতালড়ী ও আজিমনগর ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এটি। আশপাশের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন এই সেতু পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। সেতুর বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকদের উৎপাদিত সবজি বাজারে নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলেও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বছরের প্রায় ছয় থেকে সাত মাস খালে পানি থাকায় নিচ দিয়ে ঘোড়ার গাড়ি কিংবা অন্য কোনো বাহনে মালামাল পরিবহনের সুযোগ থাকে না। ফলে সেতুর ওপর নির্ভর করেই চলাচল করতে হয় সবাইকে।

নটাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুক্তা আক্তারের মতে, চরাঞ্চলের মানুষের পাশাপাশি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্যও রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেতুর বিভিন্ন স্থানের কাঠ ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবেশমুখের ভাঙা অংশটি চলাচলের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর মতে, দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।

নটাখোলা আফরোজা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. হান্নান মিয়ার ভাষ্য, সেতুটি নির্মাণের দুই বছরের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এরপর থেকে উল্লেখযোগ্য সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেতুটির কারণে চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক আনিসের মতে, প্রতিদিন চরাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ ও মোটরসাইকেল এই পথ ব্যবহার করে। কিন্তু সেতুর বর্তমান অবস্থায় যানবাহন নিয়ে চলাচল করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি পায়ে হেঁটে পারাপারেও সমস্যায় পড়তে হয়। তাই দ্রুত একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের দাবি তাঁর।

হরিরামপুর উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মোতালেব হোসেন জানান, প্রায় দুই বছর আগে এখানে ব্রিজ নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট করা হয়েছিল। তবে এরপর আর কোনো অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রতিবছরই সেতুটি মেরামত করতে হয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের হরিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এখানে ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবের সঙ্গে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্তর ডিও লেটারও সংযুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।