জহুরুল ইসলাম জুয়েল, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার এক বছরও পার হয়নি। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে পড়েছে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ধলেশ্বরী সেতু থেকে আটিগ্রাম জিসি সড়কের একাধিক অংশ। কোথাও সড়কের পাশের মাটি সরে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও ভেঙে গেছে সড়কের প্রতিরক্ষা দেয়াল। এতে কমে গেছে সড়কের প্রশস্ততা। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহন ও পথচারীদের।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জিডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে সড়কটির নির্মাণকাজ করা হয়। গাজীপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জুই এন্টারপ্রাইজ কাজটি বাস্তবায়ন করে। গত বছরের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শেষ হয়। কিন্তু এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দেওয়ায় কাজের স্থায়িত্ব ও নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের কয়েকটি স্থানে পাশের মাটি সরে গিয়ে বড় ধরনের ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও সড়কের একাংশ ঝুলে রয়েছে, আবার কোথাও প্রতিরক্ষা দেয়ালের ব্লক ও মাটি ধসে পড়েছে। এতে সড়কের প্রস্থ আগের তুলনায় কমে গেছে। বিপরীত দিক থেকে দুটি যানবাহন এলে নিরাপদে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
সড়কটি ব্যবহার করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম ও কৃষ্ণপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার মানুষ। জেলা শহর এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যাতায়াতের জন্যও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এ পথ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। সড়কের একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালেই সড়কের কাজের মান নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। কিন্তু তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। এখন নির্মাণের এক বছর না যেতেই বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি নির্মাণকাজের মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে বৃষ্টিপাত ও যানবাহনের চাপে ভাঙনের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিনের ভাষ্য, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জুই এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, নির্মাণকাজ শেষ করে নিয়ম অনুযায়ী সড়কটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কাজের জামানতসহ তাঁদের প্রায় ৩৫ লাখ টাকা বিল এখনো বকেয়া রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কারের পর বকেয়া বিল উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়েও যথাযথ তদন্ত করা প্রয়োজন।